অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কোরবানির ঈদের টানা বন্ধ থাকায় ১ লাখ ৭৩ হাজার গবাদিপশু এবং প্রায় ১০ লাখ হাঁস-মুরগির-ভেড়ার খামারি ও চাষি সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে ছুটতে হয়েছে পল্লী ও হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে। এতে অনেক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ঈদের টানা সরকারি ছুটির সময়ে এ উপজেলায় কৃষক ও খামারিরা, তাদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় ছিলেন। আজ শনিবার (১৪ জুন) পর্যন্ত টানা বন্ধে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী কৃষকের কয়েকটি গবাদিপশুসহ তিন শতাধিক হাঁস-মুরগি মারা গেছে। যদিও এটিকে মৃদু তাপপ্রবাহের প্রভাবে মৃতুর কারণ হিসেবেই দেখছেন হাঁস-মুরগি খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি হিসাবমতে ৩২১ টি গরুর খামার রয়েছে। এরমধ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগের নিবন্ধিত ৪৬ এবং অনিবন্ধিত ২৭৫ টি, ছাগলের ১১১ টি খামারের নিবন্ধিত ০১টি এবং অনিবন্ধিত ১১০টি, ভেড়ার ২৬ টি খামারের মধ্যে নিবন্ধিত ০১টি এবং অনিবন্ধিত ২৫ টি, ২টি ব্রয়লার মুরগির হ্যাচারির মধ্যে একটি নিবন্ধিত এবং ৯টি অনিবন্ধিত, ৩টি নিবন্ধিত সোনালী মুরগির খামার এবং অনিবন্ধিত ১২৬ টি, অনিবন্ধিত হাঁসের খামার ৩৬টি, অনিবন্ধিত কবুতরের খামার ১৭২টি, অনিবন্ধিত কোয়েল পাখির খামার ০৬টি, মহিষের অনিবন্ধিত খামার ৯টি, গরুর মোটাতাজাকরণ খামার ২৬১ টি নিবন্ধিত ৪টি এবং অনিবন্ধিত ২৫৭টি রয়েছে। উপজেলা পশু হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক সেবাগ্রহীতা খামারি ও গবাদিপশুর মালিক সেবা নিতে আসেন।
উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এর সামনে দুইজন সেবাপ্রার্থী দাঁড়িয়ে আছেন।
উপজেলার মিরপুর এলাকার ছাগল মালিক লিয়াকত আলী বলেন, তার দুইটি ছাগলের বাচ্চা কয়েকদিন থেকে ঠিকমতো খাচ্ছে না। এ জন্য হাসপাতালে এসেছেন পরামর্শ নিতে। কিন্তু এসে দেখে হাসপাতাল বন্ধ। তাই ফিরে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গরুর খামারি বলেন, ‘ঈদে টানা বন্ধের ফলে এখানকার গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামারি ও চাষি পশু হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নিরুপায় হয়ে সেবার জন্য খামারি ও চাষিরা পল্লী ও হাতুড়ে ডাক্তার ধরেছে। এতে কোনো কাজ হচ্ছে না। বরং ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। তাই যেকোনো বন্ধের সময়েও পশু হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা থাকাটা জরুরি। সাধারণ হাসপাতালে জরুরি ব্যবস্থা থাকে, তাহলে পশু হাসপাতালে থাকবে না কেন? মানুষের রোগব্যাধি যে কোনো সময় হতে পারে, অনুরূপ পশুরাও যেকোনো সময় রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। এটা পশু হাসপাতালের কার্যক্রমও চালু রাখা একান্ত প্রয়োজন। ঈদের ছুটির উপজেলার কোনো খামারিই পশু হাসপাতাল থেকে কোনো সেবা পায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পশুসম্পদ দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, পশু হাসপাতাল ঈদের ছুটির সময়ে জরুরি বিভাগ চালু রাখার বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই।
উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সারোয়ার হাসানকে তার ০১৭২৩ ০৫২৯০৫ নম্বরের মুঠোফোন ফোন দেওয়া হলে ফোনে রিং বাজলেও তিনি ফোন গ্রহণ না করায় এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ফুলবাড়ীতে পশু হাসপাতাল বন্ধ, সেবা থেকে বঞ্চিত গবাদিপশুর মালিকরা
জুন ১৪, ২০২৫
































