অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাত্র দুইদিনের ব্যবধানে প্রতিকেজিতে বেগুনের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। গত শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) খুচরা বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছিল ১০ টাকা কেজি দরে। শনিবার (২৭ এপ্রিল) একই বেগুন কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে এবং গতকাল রবিবার (২৮ এপ্রিল) ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি দরে।
রবিবার (২৮ এপ্রিল) ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রচুর পরিমাণে বেগুন আমদানি হলেও আকস্মিকভাবে দাম বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের দুর্ভোগ বাড়লেও স্বস্তি ফিরেছে বেগুন চাষিদের মাঝে।
উপজেলার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের বেগুন চাষি আজিজার রহমান বলেন, ২৫ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। প্রথম দিকে বেগুনের দাম থাকলেও গত মাসের শেষ দিকে আকস্মিকভাবে দাম কমে যায়। এতে খেতের বেগুন বাজারে তোলার জন্য রিকশাভ্যান ভাড়ার টাকাও জোগাড় হতো না। লোকসানের ভয়ে অনেক চাষি খেতের বেগুন বাজারে না তুলে স্থানীয়ভাবে গ্রামের লোকজনের কাছে বিক্রি করেছেন। কিন্তু গত দুইদিন থেকে বেগুনের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা হলেও বেগুন চাষিরা লাভবান হবেন।
বাজার করতে আসা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মচারি আকবর আলী বলেন, বাজার করতে এসে মাথা ঠিক থাকছে না। কোন পণ্যের দাম কখন কি পরিমাণে বাড়বে তা বলা মুশকিল। দুইদিন আগেও বেগুন ৮-১০ টাকা কেজিতে কেনা গেলেও সেই বেগুন এখন কিনতে গুনতে হচ্ছে ৪০ টাকা।
পৌর সবজি বাজারের খুচরা বিক্রেতার শ্যামল চন্দ্র বগা বলেন, পাইকারী বাজার থেকেই বেশি দামে বেগুন কিনতে হচ্ছে বলেই খুচরা বাজারেও দাম বেশি হয়ে গেছে। এতে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানো আর কমানোর বিষয়ে কোন হাত নেই। সবজি আড়ৎদার অজয় দত্ত বলেন, মোকামে বেগুনের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাইকারী ও খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। এখানে আড়ৎদারদের কোনো হাত নেই। মোকামে দাম কমে আসলে স্থানীয় বাজারেও কমে আসবে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অযৌক্তিকভাবে কেউ কোনো পণ্যের দাম বাড়িয়ে বেচাবিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন সব সময় সজাগ রয়েছে।


































