রীতা রানী কানু, আমন্ত্রণ :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমে ওঠেছে লিচুর বাজার। বিভিন্ন জাতের লিচুর ডালা সাজিয়ে বেচাকেনা চলছে ফুলবাড়ী পৌরশহরের বিখ্যাত লিচু বাজার নিমতলা মোড়সহ পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায়। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, চলতি বছরের লিচুর দাম বেশি; যা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে।
সরেজমিনে ফুলবাড়ী পৌরশহরের লিচু বাজার নিমতলা মোড়, রেলঘুমটি, টিটির মোড়, কালীবাড়ী এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেক এলাকাতেই টুকরি বা ঝুড়িতে লিচুর পসরা সাজিয়ে সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে।
বর্তমানে বোম্বাই, বেদেনা ও মাদ্রাজি জাতের লিচু বাজারে বেচাকেনা চলছে। বাজারে ১০০ মাদ্রাজি লিচু বিক্রি হচ্ছে আকার ও প্রকার ভেদে ২৩০-২৫০ টাকা দরে। একইভাবে বোম্বাই লিচু ২৫০-২৭৫, এবং বেদেনা জাতের লিচু ৫৮০-৬০০ টাকা শ’দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চায়না থ্রি জাতের লিচু এখনও বাজারে ওঠেনি। চায়না থ্রি লিচু বাজারে উঠতে আর কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
স্থানীয় লিচু ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান, কুরবান আলী, মন্টু চন্দ্র রায়, মেহেদুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বেচাকেনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে লিচু যাচ্ছে বলেই দাম বাড়তির দিকে। লিচু কিনতে আসা আলাদিপুর গ্রামের তারাপদ রায় বলেন, গত বছর বোম্বাই জাতের যে লিচু ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই লিচু এ বছর ২৭৫ টাকা শ দরে কিনতে হচ্ছে। চড়া দামের কারণে বেদেনা জাতের লিচুতে হাত দেওয়াই যাচ্ছে না।
অপর ক্রেতা ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি রিপন বাবু বলেন, দাম চড়া হওয়ায় ৬৩ টাকায় ২৫টি মাদ্রাজি জাতের লিচু কিনে বাড়ি ফিরছেন।
এদিকে প্রতিদিন বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি লিচু যাওয়া শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। স্থানীয়রা তাদের ঢাকায় বসবাসরত আত্মীয়স্বজনকে এবং অনেকেই তাদের বন্ধু-বান্ধবসহ শুভাকাঙ্খিদের কাছে লিচু পাঠাচ্ছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের এজেন্ট নাজির হোসেন বলেন, অন্যান্য সময়ের চেয়ে আম লিচুর সময়ে এগুলো বেশি বহন করতে হয়। এজন্য অনেক সময় গাড়ির সংখ্যাও বাড়াতে হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। উপজেলা পৌর এলাকাসহ সাত ইউনিয়ন এলাকায় ৬৮ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে সাড়ে ৪ দশমিক ৭১ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমন্ত্রণ/এজি






























