চন্দ্রনাথ গুপ্ত চাঁন্দা ও অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সনাতন সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আ শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় ফুলাবাড়ী পৌর এলাকার চাঁদপাড়া শ্মশান কালী মন্দির চড়ক পূজা এবং মন্দির চত্বরে গ্রামীণ মেলার উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চড়ক পূজাসহ সেখানে বসেছিল দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলা। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ মেলাসহ চড়ক উৎসবটি দেখতে সেখানে বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভক্ত ও দর্শনার্থী সমবেত হন।.
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষের অপলক চোখ ৩০ ফুট উচ্চতার কাঠের দন্ডের দিকে। একজন মানুষ শূন্যে ঘুরছেন একটি দঁড়িতে ঝুলে। দঁড়িটি বাঁধা ওই মানুষটির পিঠের চামড়ায় গাঁথা বড় দুটি বড়শির সাথে। চলছে উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি। বাজছে ঢাকঢোল। ঘুড়ানো হচ্ছে কাঠের দন্ডটি। আর তাতেই ঝুলে চারিদিকে গোল চক্কর খেলেন পরিতোষ সরকার (৩৬) নামের এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে থাকা ফুল-জল, আবির, কলা, বাতাসা, নকুলদানা ইত্যাদি ছিটিয়ে দেন অগণিত ভক্ত-দর্শকের দিকে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বড়শিতে বিদ্ধ মানুষকে ঘোরানোর আগে সারা দিন ধরে নানা পূজাঅর্জনাসহ আঁচার পালন করা হয়। মানুষ ঘূর্ণনের জন্য পোঁতা কাঠের খুঁটি মাঠের মাঝখানে বসানো। অনেকটা লাঙলের জোয়ালের মতো আরেকটি কাঠ এই কাঠের ওপর লম্বালম্বিভাবে বসানো। কাঠের মাথায় থাকে মাটি পর্যন্ত ঝোলানো কয়েকটি লম্বা দঁড়ি। কাঠের দন্ডের ঠিক নিচে একদল মানুষ শক্ত হাত দিয়ে ঘোরান দঁড়িগুলো। এটাই চড়ক পূজার মূল আকর্ষণ। .
চড়ক পূজার উৎসবে আসা ল²ী রানী রায় ও মিনতি রায় বলেন, এই চড়ক মেলা উপলক্ষে আমাদের পুরো গ্রাম উৎসবে মেতেছে। সবাই মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয় স্বজনদের আমন্ত্রণ জানায়। তারা আসেন। রাতে কালী পূজো হয়। দিনে মেলা হয়। মেলাসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ মেলা শেষ পর্যন্ত আর হিন্দু সম্প্রদায়ের মেলা থাকে না। এটা হিন্দু-মুসলিমদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
কুঁড়িগ্রাম থেকে আসা মিলন চন্দ্র বর্মন বলেন, তিনি পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলায় একটি এনজিওতে চাকরি করেন। চড়ক উৎসব হচ্ছে এ কথা শুনে আর থাকতে পরেননি, তাই সহকর্মীকে নিয়ে মেলা চড়ক দেখতে এসেছেন।
বড়শিতে ঝুলে থাকা পরিতোষ সরকার বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে এই কাজে অংশ নিয়ে থাকেন। তার পিঠের চামড়ায় অগণিত ছিদ্র রয়েছে। প্রত্যেকবার পিঠের চামড়ার ভিন্ন ভিন্নস্থানে ছিদ্র করে বড়শির কল লাগানো হয়। তবে এটি করতে বেশ সাধনার প্রয়োজন।.
চাঁদপাড়া শ্মশান কালী মন্দির ও চড়ক উৎসব আয়োজক কমিটির সভাপতি সুরজিত চন্দ্র রায় বলেন, চৈত্র মাসের শেষে চড়ক কালী পূজোর আয়োজন করা হয়। এই পূজো ও চড়ক উৎসবকে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী মেলা বসেছে। এতে কয়েক হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। তবে মেলাকে ঘিরে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীসহ থানা পুলিশের সহযোগিতায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ফুলবাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী চড়কসহ গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত
এপ্রিল ১২, ২০২৫


































