আমন্ত্রণ ক্রীড়া ডেস্ক :
গ্যালারি ভর্তি ৬৬ হাজারেরও বেশি দর্শক। তাদের চিৎকারে মনে হচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবোরো স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয়েছে রিও ডি জেনিরোর মারাকানায়।
কিন্তু ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়াদের সমর্থনে আসা সেই বিশাল জনসমুদ্রকে স্তব্ধ করে দিল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও সেলেসাওদের ২-১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফরাসিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। চোট নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও মাঠে নেমেই নিজের জাত চেনালেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। ৩২ মিনিটে উসমান দেম্বেলের রক্ষণচেরা এক পাসে চিপ শটে ব্রাজিল গোলরক্ষক এডারসনকে পরাস্ত করেন তিনি।
এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমবাপের ৫৬তম গোল। আর মাত্র ২ গোল করলেই তিনি অলিভিয়ের জিরুকে (৫৭ গোল) ছাড়িয়ে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন।
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল বল পজিশনে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগেছে। রাফিনিয়া ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি সুযোগ পেলেও গোলবক্সে বল পাঠাতে ব্যর্থ হন।
বিরতির পর ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে উল্টো বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। ৫৫ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ওয়েসলিকে ফাউল করে ভিএআর চেক শেষে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন দায়োত উপামেকানো।
একজন কম নিয়ে যখন ফ্রান্স রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ৬৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুগো একিতিকে। মাইকেল ওলিসের চমৎকার থ্রু বল ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন এই লিভারপুল ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ক্যাসেমিরোর কাটব্যাকে পা ছুঁইয়ে ব্যবধান কমান জুভেন্তাস ডিফেন্ডার ব্রেমার। এটি জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক গোল।
এরপর বাকি সময় ফ্রান্সের রক্ষণে একের পর এক ঢেউ তোলে ব্রাজিল। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে গোলমুখে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বল পেয়েও জালে জড়াতে না পারলে হারের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।


































