বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের দামদারা বিলে পানিফল চাষে সাফল্যে পেয়েছে কৃষক আবু হাসান। মাত্র দুই বিঘা জমিতে পানি ফল চাষ করে তিনি পেয়েছেন আশানুরূপ ফলন ও লাভ।
হাসান জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর প্রতি বিঘায় ২৫ মণ ফলন হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ মণ পর্যন্ত। বর্তমানে সিদ্ধ পানিফল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে এবং কাঁচা ফল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এতে প্রতি মণ ফল বিক্রি হচ্ছে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকায়, ফলে ভালোই লাভ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “যদি জমির পানি ঠিকঠাক থাকে, তাহলে ফলন আরও বাড়বে এবং দামও ভালো পাওয়া যাবে। পানিফলের চাহিদা আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি।”
পানিফল স্থানীয়ভাবে একটি জনপ্রিয় ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম পানিফলে প্রায় ৯৭ কিলো ক্যালরি পাওয়া যায়, এছাড়া, কার্ভাইড্রেট ২৩৯ গ্রাম, প্রোটিন ১.৪ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, ফ্রাইবার ৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১ মি.লি.গ্রাম এবং আয়রন ০.৬ মি.লি. গ্রাম পাওয়া যায়। সেদ্ধ বা কাঁচা দুইভাবেই বিক্রি হচ্ছে এটি। ফলে স্থানীয় বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। কৃষক হাসান মনে করেন, সঠিক পরিচর্যা ও সরকারি সহায়তা পেলে এ চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি বিকল্প হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “যদি কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা পাশে থাকেন এবং প্রশিক্ষণ বা পরামর্শ দেন, তাহলে শিবগঞ্জের অনেক কৃষকই এ চাষে আগ্রহী হবেন। এতে আমরা যেমন লাভবান হব, তেমনি এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।”
স্থানীয় কৃষকরাও বলছেন, পানিফল চাষের খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং ফলন ভালো। তাই এটি এখন এলাকার কৃষকদের কাছে নতুন আশার আলো হয়ে উঠছে। সময়মতো সেচ ও পরিচর্যা থাকলে খুব অল্প সময়ে এ ফসল থেকে ভালো আয় সম্ভব।
এলাকার সচেতন মহলের ধারণা, শিবগঞ্জের বিলাঞ্চলে পানি ফল চাষকে যদি সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সম্প্রসারণ করা যায়, তাহলে এটি হতে পারে কৃষকদের জন্য এক লাভজনক ফসল এবং এলাকার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, পানিফল একটি শীতকালীন জনপ্রিয় ফল যা পুষ্টিমান সমৃদ্ধ। এই ফল কাচা ও সেদ্ধ অবস্থায় খাওয়া যায়। এছাড়া এটি কীটনাশক মুক্ত এবং বিঘা প্রতি খরচের পরিমাণ সীমিত। আমাদের দেশের সরকারিভাবে যে পতিত জলাশয়গুলো আছে, এখানে যদি তরুণ এবং বেকার যুবকদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাদের একদিকে যেমন আত্নকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে তারা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হতে পারবে।
ভবিষ্যতে পানিফল চাষাবাদে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সর্বোচ্চ সহোযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































