তেঁতুলিয়া সংবাদদাতা :
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী সানজিদা রুনা নামের এক ভারতীয় নারীকে আটক করেছে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ভজনপুর (বিওপি) ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে তার কাছে ভারতীয় পার্সপোর্ট বা প্রয়োজনীয় কোন কাগজপত্র পায়নি বিজিবি। কোন পথে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এমন কোন তথ্যও বিজিবির কাছে দেননি আটক ভারতীয় নারী।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে আটক করে বিজিবি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে তেতুঁলিয়া মডেল থানা পুলিশে সোর্পদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ভারতীয় নারী সানজিদা রুনা জানান, তার বাড়ী মুম্বাইয়ের বান্দ্রায়। তার বাবার নাম সেল্লু ও মায়ের নাম শান্তি। বাবা একজন অভিনেতা। তার বাবা মুসলিম ও মা হিন্দু ধর্মালম্বী।
তেতুঁলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজিম উদ্দীন বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে বামন পাড়া এলাকায় এক অপরিচিত নারীকে বোরকা পরিহিত অবস্থায় ঢাকা-বাংলাবান্ধা মহাসড়কে হাঁটতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাদের সন্দেহ হলে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে স্থানীয়রা। এসময় আটক ওই নারী হিন্দিতে কথা বলে। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আমাকে খবর দেয় স্থানীয়রা।
তিনি জানান, ভারতীয় ওই নারীকে গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তার নাম সানজিদা রুনা বলে জানায় সে। পরে বিজিবিকে খবর দেওয়া হয়।
এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান, তার নানির বাড়ী পঞ্চগড়ে। মুক্তা নামে তার পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে সীমান্ত এলাকায় আসতে বলেছেন। তবে তার কাছে মোবাইল নম্বর, ফেসবুক আইডি বা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নাম্বার জানতে চাওয়া হলে তার বাবা তাকে মোবাইল চালাতে দেন না বলে জানান তিনি। তবে সীমান্তের যে অংশ দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন সেখানে কোন কাঁটাতারের বেড়া নেই বলেও জানান তিনি।
তেতুঁলিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় বলেন, এক নারীকে আটক করে আমাদের কাছে সোর্পদ করেছে বিজিবি। আমরা আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সমন্ধে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবো।
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউল হক বলেন, এক ভারতীয় নারীকে সীমান্তবর্তী বামনপাড়া এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তারা তাকে ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। আমি বিষয়টি জানা মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তিনি ভারতীয় একজন নারী। আমরা তাকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশে সোর্পদ করেছি। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এজি


































