বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ পুনরায় সচল হওয়ার পথে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে লাইনচ্যুত বগিগুলো আপাতত রেললাইনের পাশে সরিয়ে রেখে দ্রুত মেরামত কাজ চালানো হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগগিরই এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলো লাইন থেকে সরিয়ে পাশে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে। আমরা আশা করছি, থুব শিগগিরই লাইনটি ট্রেন চলাচলের জন্য উপযোগী হবে।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সাজেদুর রহমান বলেন, বগিগুলো উদ্ধারের পর এখন লাইন সচলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। লাইন সচল হওয়ার পর প্রথম ট্রেন হিসেবে সীমান্ত এক্সপ্রেস চলাচলের মাধ্যমে এই রুটে যোগাযোগ পুনরায় শুরু হবে।
সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা বেগম জানান, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত ৯টি বগির মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুটি বগি সরিয়ে লাইনের পাশে রাখা হয়েছে। এখন রেললাইন মেরামত করে দ্রুত ট্রেন চালুর চেষ্টা চলছে।
খাদিজা বেগম জানান, উদ্ধারকাজের পাশাপাশি রেললাইন মেরামতের কাজও একসঙ্গে চলায় কিছুটা সময় লাগছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন ক্লিয়ার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রম তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, বাকি বগি উদ্ধার সম্পন্ন হলেই দ্রুত রেললাইন সচল করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
এদিকে দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ও ট্রান্সশিপমেন্ট বা বিকল্প ট্রেনে যাতায়াতের কারণে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে মালামালসহ হেঁটে দুর্ঘটনাস্থল পার হতে গিয়ে যাত্রীদের নাজেহাল হতে হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত লাইন সচল করে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ মেরামতের কাজ আরও কিছু সময় চলবে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছে।
তবে এই দুর্ঘটনায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আজ ও কালকের জন্য ৮০৪ নম্বর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের (আক্কেলপুর-রাজশাহী ও পঞ্চগড়-রাজশাহী) যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ৭৯৭ নম্বর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসটি বিকল্প পথে বগুড়া হয়ে চলাচলের কথা রয়েছে।
সান্তাহার ও বগুড়াসহ আশপাশের স্টেশনগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। অনেকেই মালামাল নিয়ে এক ট্রেন থেকে নেমে অন্য ট্রেনে যাওয়ার পথে বিপাকে পড়ছেন।
উল্লেখ্য বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে সান্তাহার রেল জংশনের নিকটবর্তী বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে সকাল ছেড়ে আসা ট্রেনটির ইঞ্জিন পার হলেও ১৬টি বগির মধ্যে ৯ট লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনায় প্রায় শতাধিক যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জনকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা এবং রেল কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। পরে ঈশ্বরদী ও সৈয়দপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ হোসেন মাসুমের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে
আমন্ত্রণ/এজি


































