ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রাত তখন ১টা।
কথা হয় এনআইসিইউতে দায়িত্বরত নার্স মুক্তা খাতুনের সঙ্গে। এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, শিশুটির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। যদি ইঁদুরের কামড়ের ক্ষত না থাকতো তাহলে হয়তো শিশুটি চিকিৎসা সেবায় দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠতো। সাধ্যমতো সব ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিশুটির উদ্ধার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ১টার দিকে পৌর এলাকার পূর্ব মেড্ডা (পুরাতন সেকশনের) পাশে নালার পাড়ের বাসিন্দারা বাচ্চার কান্নার শব্দ শোনতে পান। পরে বাসিন্দরা নৈশপ্রহরী বাছির মিয়াকে জানালে তিনি লোকজন জড়ো করেন। পরে সোহাগ মিয়া নামে একজন ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে সদর থানা পুলিশ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউল আমিন জুয়েল, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিমন আল স্বাধীন, শরীফুল ইসলাম, গালিব, সোহান, আরিফ ও বাবুসহ স্থানীয়রা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় দেখা যায় একটি ইঁদুর শিশুটির গালে কামড় দিয়ে ধরে রেখেছে। ইঁদুরের কামড়ে শিশুটির মুখমন্ডলসহ সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে।
নৈশপ্রহরী বাছির মিয়া জানান, খাল থেকে বাচ্চার কান্না শোনতে পায় স্থানীয় মানুষজন। নবজাতকটি পলিথিনে মোড়ানো ছিল। ইঁদুর ওই নবজাতের এক পাশের গাল কামড়ে অনেক ক্ষত করে। এতে বাচ্চাটি বেশি কান্না করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউল আমিন জুয়েল বলেন, ‘আমার বন্ধু সোহাগ ৯৯৯ কল করে পুলিশকে নবজাতকের কথা জানান। পরে খাল থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকটিকে সোহাগ নিয়ে আসে। পলিথিনের ভেতর চিকা (ইঁদুর) ছিল যার কামড়ে নবজাতকের এক পাশের গাল মারাত্মক ক্ষত হয়ে যায়। নবজাতকটি মেয়ে। পুলিশ ও আমরা কয়েকজন মিলে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লিমন আল স্বাধীন বলেন, ‘যেভাবে শিশুটিকে ফেলে রাখা হয় তাতে শিশুটি মরেই যেতে পারত। সৃষ্টিকর্তা তাকে রক্ষা করেছেন। ইঁদুরের কামড়ে চিৎকার শুনে আমরাসহ লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। আমরা শিশুটির খোঁজ রাখছি। শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠলে কোনো নিঃসন্তান দম্পত্তির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মো. সুমন ভূঁইয়া বুধবার দুপুরে বলেন, ‘শিশুটির শারিরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। ইঁদুরের কামড়ে ক্ষত হওয়ার শিশুটি শঙ্কামুক্ত নয়। শিশুটিকে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে নবজাতটিকে উদ্ধার করা হয়। নবজাতকের অভিভাবককে শনাক্ত করা যায়নি। কেউ হয়তো অবৈধ গর্ভপাত করে নবজাতকটিকে খালে ফেলে দিয়ে যেতে পারে। শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নিষ্ঠুর পৃথিবী ও নবজাতকের লড়াই!
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪


































