বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়া শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা করতোয়া নদীর মাত্র ১৭ কিলোমিটার পুনখনন শুরু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের উত্তর অংশের মাটিডালি এলাকায় দ্বিতীয় বারের মতো মোবাইলে অডিও কলের মাধ্যমে খননকাজের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় করতোয়া নদীর ১৭ কিলোমিটারের পাশাপাশি সংলগ্ন সুবিল খাল এবং অটো খাল নামে দুটি খালের ২৭ কিলোমিটার খনন করা হবে। ‘বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় করতোয়া নদী পুনঃখনন ও ডান তীরে ¯েøাপ প্রটেকশন কাজ’ নামে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্মার্ট বগুড়া গড়ার অংশ হিসেবেই করতোয়া নদী খননসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও করতোয়ার পশ্চিম পাশ দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণ করে শহরের যানজট নিরসনে চেষ্টা চলছে। নদীর নাবত্যসহ সৌন্দর্য্য বর্ধনে যেসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন হলে স্মার্ট বগুড়ায় পরিনত হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বগুড়া জেলা কার্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজা পারভীন।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা যুবলীগের সাধারণ আমিনুল ইসলাম ডাবলু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডালিয়া নাসরিন রিক্তা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ। এসময় ঠিাকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন এন্ড কোং এর প্রতিনিধি হুমায়ন কবিরসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বগুড়ার সুধীজনরা প্রশ্ন তুলেছেন নদীর সীমানা নির্ধারণ না করেই খননকাজ নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, করতোয়া নদীর নাব্যতা ফেরাতে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭ কিলোমিটার খনন কাজ শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বগুড়া সদর অংশে এ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর আগে গত বুধবার বগুড়ার শাজাহানপুর অংশে খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। করতোয়া নদী খননের পাশাপাশি এসপি ব্রিজ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত ওয়াকওয়ে হবে। সৌন্দর্য্য বর্ধনে গাছ লাগানো হবে। চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি নির্মল বাতাস গ্রহণে বিশেষ ভ‚মিকা রাখবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘করতোয়ার নাব্য ফেরাতে হলে ১২৩ কিলোমিটার অংশের খনন প্রয়োজন। কিন্তু সেটি আমলে নেওয়া হচ্ছে না। মূল প্রকল্পের বাস্তবায়ন ছাড়া এভাবে ছোট একটি অংশ খনন করলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।’

































