আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভাণ্ডারবাড়ী হাইস্কুল-মরিচতলা বাজার সড়ক নির্মাণকাজ ফেলে রেখে প্রায় আড়াই মাস ধরে এলজিইডির এক ঠিকাদার উধাও । বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ঠিকাদারের উদাসীনতায় প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। নির্মাণকাজের নামে রাস্তা খুঁড়ে বালু ফেলে রাখায় সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভাণ্ডার বাড়ী হাইস্কুলের ছাত্র ছাত্রী ও স্থানীয়দের। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষও হয়ে গেছে।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,৪৪৫ মিটার পুরো সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করে মাটি ও বালু ফেলে রাখা হয়েছে। এর ফলে যোগাযোগব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে পথচারী কিংবা কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।সড়কের বিকল্প পথ হিসেবে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সড়ক সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারি স্থানীয় বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, রাস্তার এ অবস্থা হওয়ায় ঠিক মত দোকান করতে পারি না ও বেকারি মালামালের গাড়ি না আসায় দোকান করা মুশকিল হয়েছে।
মরিচতলা গ্রামের অটোরিকশা চালক নান্নু মিয়া বলেন, দুই মাস হলে ঠিক মত গাড়ি চালাতে পারি না।অন্যের বাড়িতে গাড়ী রেখে চালিয়ে কোনো রকম সংসার চালছে।
ভাণ্ডার বাড়ি হাইস্কুলের ছাত্র সুমন বলেন, বাড়ি থেকে স্কুলে গিয়ে আবারও হাত মুখ না ধোঁয়া হলে নিজেকে চেনা যায় না। তবে মেয়েদে স্কুলড্রেস প্রতিদিনই ধুয়ে দিতে হয়।শীতের কারণে না শুকালে আনড্রেসে স্কুলে আসতে হয়। তবে রাস্তা টি বেহাল অবস্থা হওয়া ৫ গ্রামের মানুষের চলাচলে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে।
তবে স্থানীয়রা আরো বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির কাজ শুরু হওয়ায় তারা প্রথমে আনন্দিত ছিল। কিন্ত দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এখন তাদের চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। একজন স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ শুরুর আগে সড়ক দিয়ে কোনোভাবে চলাচল করা যেত।কিন্তু এখন তো পুরো রাস্তা খোঁড়া। চলাই দায় হয়ে গেছে। আমরা চাই দ্রুত এই কাজ শেষ করা হোক।’
স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী বন্ধু ট্রেডার্সের ম্যানাজার রফিকুল ইসলাম রাস্তায় বালু ফেলে এলাকার মানুষ কে তো ভোগান্তি ফেলেছে, আমাদের বালুর পয়েন্ট থেকে বালু নিয়ে আমাদের কেও ভোগান্তিতে ফেলেছে। ঠিকাদার আমাদের কাছ থেকে ১২০গাড়ী বালু নিয়ে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছে এখনো ১লাখ ২০হাজার টাকা বাকী। ঠিকাদারকে ফোন করলে ফোন ধরছে না। এখন আমার ফোন নম্বর ব্লগ করে রেখেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ছালেহা জহুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ থেকে মরিচতলা বাজার সড়কের ৪৪৫ মিটার অংশ পাকাকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে মেসার্স অন্তরা কনস্ট্রাকশনকে ২০২৪ সালের ১৬ মে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৯ টাকা।চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ মে কাজ শুরু হয়ে ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অন্তরা কনস্ট্রাকশনের মালিক জহুরুল ইসলাম কালবেলা কে বলেন,‘আমার স্ত্রী জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারিনি। তবে বর্তমানে পারিবারিক সমস্যা কেটে গেছে। এলজিইডি থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করব।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন,‘চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের কোনো খোঁজ নেই। বারবার চিঠি দেওয়া এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের পরও কোনো সাড়া মেলেনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চুক্তি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ধুনটে সড়কের কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, ভোগান্তিতে স্কুল ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসী
জানুয়ারি ২১, ২০২৫


































