বগুড়া ব্যুরো ও ধুনট প্রতিনিধি :
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ক্লিনিক থেকে চুরি হয়ে যাওয়ার প্রায় আড়াই মাস পর সেই নবজাতককে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিভাগ থেকে নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পরপরই ওই নবজাতককে মায়ের কোলে তুলে দিয়েছে পুলিশ। তবে ক্লিনিক থেকে ওই নবজাতককে চুরি করে বিক্রয়ের অভিযোগে করা মামলার আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেলকুচি গ্রামের আয়শা আকতার আশার প্রায় এক বছর দুই মাস আগে সোহেল রানার সঙ্গে বিয়ে হয়। সোহেল রানা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থান করায় অন্তঃসত্ত¡া আয়শা আকতার আশা বেলকুচি গ্রামে নানি আছিয়া খাতুনের বাড়িতে থাকেন। এ অবস্থায় ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর বেলকুচি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহীন ও তার লোকজন আশাকে তার নানির বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। তারা আশাকে শেরপুর শহরে ক্লিনিকে ভর্তি করে। সেখানে আশা সিজারের মাধ্যমে পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। আশা সন্তান জন্মের পর অচেতন থাকায় ক্লিনিক থেকে নবজাতককে চুরি করে রফিকুল ইসলাম শাহীন এক দম্পতির কাছে বিক্রি করে।
এ ঘটনায় আয়শা আকতার আশা বাদি হয়ে ১৩ ফেব্রæয়ারি রফিকুল ইসলাম শাহীনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করে। মামলার পর নবজাতককে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকে পুলিশ। অবশেষে নবজাতককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে থেকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে আয়শা আকতার আশা বলেন, আমার বুকের ধন আমি ফিরে পেয়েছি। আমি খুবই খুশি। যারা আমার ছেলেকে চুরি করেছিল, আমি তাদের বিচার চাই।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈকত হাসান বলেন, মামলাটি তদন্তের স্বার্থে নবজাতককে উদ্ধারের কৌশল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ মামলার আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


































