দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বোরো মৌসুমে দিন দিন বাড়ছে আদর্শ বীজতলার জনপ্রিয়তা। এ বীজতলায় উৎপাদিত ধানের চারা যে কোন বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করতে পারে। আদর্শ বীজতলায় চারা উৎপাদন খরচ সাশ্রয় হয়। এমনকি উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। তাই এ বীজতলার দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা।
আদর্শ বীজতলা তৈরিতে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে উপজেলার কৃষি অফিস। সনাতনী বীজতলার তুলনায় আদর্শ বীজতলায় উৎপাদিত চারার স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকিও কম থাকে। চারা তোলার সময় শিকড়ে মাটি না ধরায় চারাগুলো কোনো ধরনের আঘাত পায় না।
রোপণের পর প্রায় শতভাগ চারা জীবিত থাকে। খরচ কম এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা বেশি আকৃষ্ট হয়েছেন আদর্শ বীজতলায়। বোরো মৌসুমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধানের জাত চাষ করে চাষিরা।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানান, ধানের সঠিক সার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত তথ্য। দু’ধরনের মেয়াদি জমিতে সার ও ওষুধের পরিমাণের মাত্রা।
দীর্ঘমেয়াদি জাতের ক্ষেত্রে টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও দস্তা সারের পুরোটাই শেষ চাষের সময় মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে দস্তা ও টিএসপি একসঙ্গে না মিশিয়ে পৃথকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে ইউরিয়া সারকে সমান তিন ভাগে ভাগ করে প্রয়োগ করতে হবে।
প্রথম কিস্তি শেষ চাষের সময়, দ্বিতীয় কিস্তি চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর অর্থাৎ গোছায় কুশি দেখা দিলে এবং শেষ কিস্তি কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন আগে স্বল্পমেয়াদি জাত যার জীবনকাল ১৫০ দিনের কম তাতে বিঘাপ্রতি সার ইউরিয়া ৩৫ কেজি, টিএসপি ১২ কেজি, এমওপি ২০ কেজি, জিপসাম বা গন্ধক ১৫ কেজি, দস্তা ১.৫ কেজি।
স্বল্পমেয়াদি জাতের ক্ষেত্রে টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও দস্তা সারের পুরোটাই শেষ চাষের সময় মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে দস্তা ও টিএসপি একসঙ্গে না মিশিয়ে পৃথকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি সেলিম রেজা বলেন, স্বল্পমেয়াদি জাতের ক্ষেত্রে ইউরিয়া সারকে সমান তিন ভাগে ভাগ করে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তি চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি চারা রোপণের ৩০-৩৫ দিন পর এবং শেষ কিস্তি কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন আগে।
এদিকে, সংস্থাটি বলছে, ডিএপি সার প্রয়োগ করলে তিন ভাগের একভাগ ইউরিয়া সার জমিতে কম দিতে হয়। ডিএপি সার ব্যবহার লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব।
অন্যদিকে ধান কাটার সময় গাছের গোড়া থেকে ১০-১২ ইঞ্চি ওপরে কেটে নাড়া মাটিতে মিশিয়ে দিলে পটাশ সারের পরিমাণ তিন ভাগের এক ভাগ কম লাগে।
জৈব সারের সঙ্গে রাসায়নিক সার সমন্বয় করে ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় ও ভালো ফলন হয়। জমিতে বছরে একবার হলেও বিঘাপ্রতি ৭০০-৮০০ কেজি জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।
দুপচাঁচিয়ায় আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতে না হতেই বোরোধান চাষাবাদের প্রস্তুতি হিসেবে বীজতলা তৈরি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে জানা যায়, আদর্শ বীজতলায় আগাছা দমন, সার প্রয়োগ, সেচ দেওয়া, বালাই দমন সহজ হয় এবং সুস্থ-সবল চারা উৎপাদন হয়। স্থানীয় পদ্ধতির চেয়ে এ পদ্ধতিতে বীজ কম লাগে। ফলে খরচও কম হয়। হিসাব মতে, ১ শতক বীজতলার চারা দিয়ে প্রায় ২০ শতক ধানের জমি রোপণ করা যায়। কৃষকদের কমিউনিটি (আদর্শ) বীজতলার বিষয়ে যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরে উপজেলার ২টি পৌরসভাসহ ০৬টি ইউনিয়নে মোট ১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কর্ম ব্যস্ততা এখন চোখে পড়ার মতো।
কেউ বীজতলায় সেচ দিচ্ছে, কেউ লাঙল দিয়ে, কেউবা কোদাল দিয়ে বীজতলা চাষ করছে আবার মই দিয়ে বীজতলা সমান করছেন। অনেক চাষী অঙ্কুরিত বীজ ধানগুলো বীজতলায় ছিটাচ্ছে পরম যত্নে। এমন দৃশ্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখতে পাওয়া গেছে।
বীজতলার জন্য সাধারণত এসব নিচু ও খাল বিলের জমি নির্বাচন করা হয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুম বা নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এসব নিচু জমি ও বিলের পানি শুকিয়ে যায়। ঠিক তখনই শুরু হয় বীজতলা তৈরির এই কাজ।
কৃষক জাকির হাসান মিঠু জানান, আগে বীজ বপন করতে পারলে ধানের চারা সতেজ সুন্দর হয়। আগাম বীজতলার চারা রোপণ করলে ধানের ফলন ভালো হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ সাইফুল আবেদীন বলেন, এবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের পছন্দমতো বীজ যেমন ব্রী-ধান-৮৯,৯২,১০২,১০৮, এছাড়া জিরা ও কাটারি বীজ ক্রয় করেছেন। ইতোমধ্যে কৃষকেরা তাদের বীজতলা তৈরির কাজও অনেকটা শেষ করেছে বলেও জানান তিনি।
আমন্ত্রণ/এজি


































