অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
শনিবার (১০ আগস্ট) পযন্ত দীর্ঘ ২৩ দিন ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বেকার অবস্থায় অলস সময় কাটছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের কুলি, মজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ হকারদের।
কর্ম হারিয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন এসব শ্রমজীবী মানুষগুলো। কবে থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে সেটিও অনিশ্চিত হওয়ায় তাদের আয়ের পথও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্টেশনের প্লাটফর্মের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেরই ব্যবসার যা কিছু পূঁজি ছিল তা ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন সংসার চলছে ধার-দেনার ওপর।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ জীবনের প্রচলিত অভ্যাস সকালে উঠেই স্টেশন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার, মজুর, কুলিসহ স্থানীয়রা আগের মতোই চলে আসেন স্টেশনে। স্টেশনে এসে আগের মতো নিত্যনতুন যাত্রীদের দেখা না পাওয়ায় নিজেদের মধ্যেই গল্পগুজব আর মুঠোফো লুডুসহ ক্যারাম খেলে অলস সময় কাটছে তাদের। প্লাটফর্মের যাত্রী সাধারণ না থাকালেও বর্তমানে অবস্থান নিয়েছে এলাকার ব্যক্তি বিশেষের পালিত বেশ কিছু ছাগল। প্লাটফর্মের রিকশা ভ্যান রেখে বিশ্রাম নিচ্ছেন চালক। বেচাবিক্রির আশায় দুইজন পানবিড়ির দোকান খুলে বসে আছেন খদ্দেরের আশায়। কোলাহল পরিবেশের রেলওয়ে স্টেশন এখন যেন শুনশান এক নির্জনপূরি। আগে স্টেশন মাস্টারের ঘরে যাত্রীদের আনাগোনা চলতো কোন ট্রেন কখন আসছে, ট্রেন কোথায় আছে, আসতে আরো কত সময় লাগবে এমন কথাবার্তা বিনিময়ের মধ্যে। কিন্তু এখন আর কেউ স্টেশন মাস্টারের কক্ষের দিকেও তাকায় না। কর্মব্যস্ততা না থাকায় স্টেশন মাস্টার ও বুকিং সহকারীসহ অন্যান্য কর্মচারিরা কক্ষ বন্ধ করে ভেতরে গল্পগুজব করে সময় পার করছেন।
স্টেশন এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্লাটফর্ম ফাঁকা। যাত্রীদের বসার আসনগুলো পড়ে রয়েছে এজন্য সেই আসনে বসে মোবাইল ফোনে লুডু খেলে সময় পার করছেন কয়েকজন মিলে। কর্ম না থাকলে সময়ও কাটে না, এজন্য সময় কাটাতেই লুডু খেলা।
রিকশা ভ্যান চালক রফিকুর ইসলাম বলেন, স্টেশনের প্লাটফর্মের রিকশাভ্যান চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু ট্রেন চলাচল না থাকায় প্লাটফর্মে রিকশাভ্যান রেখে স্টেশনের ফ্যানের নিচে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন।
প্লাটফর্মের ক্ষুদ্র চা দোকানী কোরবান আলী ও পেপার ও পুস্তক বিক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, এমন অবস্থা এর আগে কোনো সময় দেখেননি। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় স্টেশন সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কুড়ি, মজুরসহ আশপাশের ব্যবসায়ী সবাই নিঃস্ব হয়ে গেছে। বেকার হয়ে ঋণ-দেনার উপর চলছে পরিবার পরিজন। অনেকেরই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে পরিবার পরিজন নিয়ে। দ্রুত ট্রেন চলাচল শুরু হলে এ সংকট ধীরে ধীরে কেটে যাবে। সকলেই তার কর্ম ফিরে পারে। যাত্রীদের কোলাহোলে মুখরিত হবে স্টেশনের পস্নাটফর্ম। স্টেশন মাস্টার মো. ইস্রাফিল ইসলাম বলেন, ১৯ জুলাই থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় স্টেশনের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঘরের মধ্যে গল্পগুজব করেই দিন কাটছে। তবে স্টেশনে সব সময় থাকতে হচ্ছে এজন্য যে, কখন ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা আসে। সেভাবে আমাদেরকে সব সময় মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































