রফিক প্লাবন, দিনাজপুর :
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকলের সমঅধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহবান জানানো হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শহরের কলেজ মোড়স্থ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমিতে একাডেমির পরিচালক মানিক সরেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে কক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং সাংস্কৃতিক একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, দিনাজপুর জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) দিনাজপুর জেলা শাখার আহবায়ক কিবরিয়া হোসেন, আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতি দিনাজপুর ও উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি লুকাস সরেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি সিবানী উড়াও প্রমুখ।
অতিথিবৃন্দের বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনের সুযোগ তৈরি করেছে। এই পরিবর্তনের সুফল যেন সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সব মানুষ সমানভাবে পায়, সেদিকে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
আমিনুল ইসলাম মুন্না বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আদিবাসীসহ দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমান অংশগ্রহণ ছিল। কাউকে পেছনে ফেলে নয়, সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। জুলাইয়ের চেতনাকে আমাদের ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের যেকোনো ন্যায্য দাবি ও সমস্যায় জেলা বিএনপি তাদের পাশে থাকবে।”
বাসদ নেতা কিবরিয়া হোসেন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্খা ছিল বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান। তাই শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যও দূর করতে হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত আকাঙ্খা পূরণ হবে না।”
লুকাস সরেন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষও রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে পরিচয় বা জাতিগত অবস্থানের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। আমাদের ভূমি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
সিবানী উড়াও বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা যদি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার হয়, তাহলে আদিবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব পেতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সমঅধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।”
মানিক সরেন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। এই অভ্যুত্থানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি সাংস্কৃতিক কর্মকাÐের মাধ্যমে এই চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাবে।”
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘জুলাইয়ের চিঠি’, ‘ছাদ বাগানের গল্প’ এবং ‘পথ’ প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেয়।
আমন্ত্রণ/এজি
দিনাজপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমিতে আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
আগস্ট ১৩, ২০২৬






























