টাঙ্গন নদীর এক সাঁকোতেই বন্দি মরিচাখারী জনপদ; দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
মো. সাইফুল ইসলাম প্রবাল চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক :
শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদী এখন কয়েক হাজার মানুষের জন্য এক বিশাল দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের দার্জিলিং রোডের রিভারভিউ স্কুল সংলগ্ন জমিদার পাড়া থেকে মরিচাখারী যাওয়ার একমাত্র ভরসা এখন জরাজীর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো। বছরের পর বছর আশ্বাস মিললেও এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মরিচাখারী, ঘাটপাড়া, বিহারী পাড়া, হাজীপাড়া ও চাপাতি মোড় এলাকার প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রতিদিন এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। বিশেষ করে কোমলমতি স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত এই সাঁকো পার হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে গেলে সাঁকোটি অকেজো হয়ে পড়ে এবং নৌকাই হয় একমাত্র ভরসা।
স্থানীয়রা জানান, নদী পার হতে জনপ্রতি ১০ টাকা এবং সাইকেল বা মোটরসাইকেল পারাপারে ২০ টাকা করে গুনতে হয়। নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এই প্রতিদিনের খরচ এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় পথচারী মনছুর আলী বলেন, “শহরের দার্জিলিং রোডে বিশাল বাজেটে দৃষ্টিনন্দন রাস্তার কাজ হচ্ছে, অথচ আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে একটি ব্রিজের জন্য বারবার অনুরোধ করলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।”আরেক পথচারী লাবু জানান, বর্ষাকালে নদী পার হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে সেনুয়া ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় এবং শ্রম—দুটিরই অপচয় হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতারা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর সেই প্রতিশ্রুতি আর আলোর মুখ দেখে না।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস জানান, ওই এলাকার মানুষের ব্রিজের দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক। তিনি বলেন, “আমরা ইতিবাচকভাবে বিষয়টি নিয়ে চাহিদা (ডিমান্ড) পাঠিয়েছি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে অনতিবিলম্বে ব্রিজটি নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।”ঠাকুরগাঁওয়ের এই অবহেলিত জনপদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে টাঙ্গন নদীর এই পয়েন্টে একটি আধুনিক ব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।
আমন্ত্রণ/এজি
ঠাকুরগাঁওয়ে শহরের কোল ঘেঁঘেই যেন এক ‘অন্ধকার দ্বীপ’
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
































