প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে ভোগান্তিতে শত শত ভূমি মালিক, আটকে আছে জমি বিক্রি ও রেজিস্ট্রি
গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক :
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ডিজিটাল ভূমিসেবা ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি মৌজার শত শত ভূমি মালিক। কোথাও ই-নামজারি সিস্টেমে মৌজার তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও দাগ ও খতিয়ানের তথ্য দেওয়ার পর জরিপের ধরন নির্বাচন করতে গিয়ে আরএস (RS) রেকর্ডের অপশন দেখা যাচ্ছে না। ফলে নামজারি আবেদন, জমি বিক্রি ও রেজিস্ট্রি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন অনেক ভূমি মালিক।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াঘাট উপজেলায় মোট ১১৫টি মৌজা রয়েছে। এর মধ্যে ১০৯ নম্বর কালুপুকুর মৌজার তথ্য বর্তমানে ই-নামজারি সিস্টেমে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এই মৌজার ভূমি মালিকরা অনলাইনে নামজারির আবেদন করার প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করতে পারছেন না।
অন্যদিকে বালিয়াডাঙ্গী ও পালশা ইউনিয়নের দুটি মৌজাসহ উপজেলার প্রায় ৭ থেকে ১০টি মৌজায় দাগ ও খতিয়ানের তথ্য দেওয়ার পর জরিপের ধরন নির্বাচন করতে গিয়ে আরএস (RS) রেকর্ডের অপশন পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এসব মৌজায় বর্তমানে আরএস রেকর্ড অনুসারেই নামজারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া আটকে যাচ্ছে এবং জমি হস্তান্তর ও রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
কালুপুকুর মৌজার বাসিন্দা আমতাজ উদ্দিন তালুকদার বলেন, “আমি জটিল হৃদরোগ ও কিডনি রোগে ভুগছি। প্রতি মাসে চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়। চিকিৎসার খরচ জোগাতে জমি বিক্রি করতে চাইলেও নামজারির আবেদন করতে গিয়ে দেখি অনলাইন সিস্টেমে মৌজার তথ্যই নেই। প্রায় এক মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, জমি বিক্রি করতে না পারায় চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান না হলে তার মতো আরও অনেক ভূমি মালিককে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
উপজেলার বালিয়াল মৌজার বাসিন্দা রেহেনা আক্তার চৌধুরী বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব আমার কাঁধে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ সংসারের প্রয়োজন মেটাতে শেষ সম্বল জমিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ক্রেতার সঙ্গে দরদামও ঠিক হয়েছিল। কিন্তু নামজারি করতে গিয়ে দেখি, সার্ভারে বালিয়াল মৌজার আরএস অপশন নেই।”
তিনি বলেন, নামজারি ও রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ায় জমিটি বিক্রি করতে পারছেন না। এতে সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ সংসারের প্রয়োজন মেটানো নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ভূমি মালিকদের অভিযোগ, বর্তমানে জমি সংক্রান্ত অধিকাংশ সেবা অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় সফটওয়্যারে তথ্য না থাকা বা প্রয়োজনীয় অপশন না থাকলে তারা সরাসরি কোনো কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারছেন না। ফলে দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না তারা।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, “সমস্যাটি স্থানীয় ভূমি কার্যালয়ের নয়। সরকারি ভূমি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সফটওয়্যারে থাকা সাপোর্ট অপশনের মাধ্যমে জানানোর পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি সাময়িক সমস্যা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
ভূমি মালিকরা বলছেন, দ্রুত সফটওয়্যারের ত্রুটি সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট মৌজাগুলোর তথ্য হালনাগাদ করা না হলে জমি বিক্রি, নামজারি ও রেজিস্ট্রি কার্যক্রম আরও দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন সাধারণ মানুষ।
আমন্ত্রণ/এজি
ঘোড়াঘাটে অনলাইনে ‘গায়েব’মৌজা, থমকে আছে নামজারি
আগস্ট ২৫, ২০২৬
































