গোপাল মোহন্ত, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং পৌরসভার সাবেক মেয়র মুকিতুর রহমান রাফি, ওলামা লীগের গোবিন্দগঞ্জ শাখার সভাপতি হোসাইন আহম্মেদ, মোস্তফা কামাল সুমন সহ ১১ জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামী করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গত সোমবার তানভীর নামে এক যুবক এ মামলাটি দায়ের করেছেন। তিনি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা নুরুন নবী প্রধানের ছেলে।
মামলার এজাহার উল্লেখ করা হয় ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল তানভীর মোটরসাইকেল যোগে বাসায় যাওয়ার পথে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের প্রধান ফটকের নিকট পৌঁছিলে মিন্টু শেখ, মোস্তফা কামাল সুমন, জহুরুল ইসলাম সবুজ সহ ২০/২৫ জন মুকিতুর রহমান রাফির নির্দেশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তানভীরের উপর আক্রমণ চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তানভীরকে ছুড়িকাঘাতসহ বেদম মারপিট করে। তানভীরকে রক্ষার জন্য রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তি এগিয়ে আসলে তাকেও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে তার পা ভেঙ্গে দেয়। সন্ত্রাসীরা তানভীরের মোটর সাইকেলটিও নিয়ে যায়। গুরুতর আহত তানভীরকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আর রহুল আমিনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল বগুড়ায় ভর্তি করা হয় । সেখানে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। মামলার বাদী তানভীর জানান, তার বাবা রাজনীতিতে ভিন্ন মতাদর্শের হওয়ায় তৎকালীন ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসররা তার উপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে থানা মামলা গ্রহণ করেনি। ৫ আগস্ট অবৈধ সরকারের পতনের পর দেশে বৈষম্য দুর হয়ে গেলে তিনি ১১ নভেম্বর ১১জন নামীয় আসামীসহ ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেন। গোবিন্দগঞ্জ থানা তার মামলাটি গ্রহণ করেছেন। গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মামলার ২ নং আসামী মোস্তফা কামাল সুমন মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সামাজিক মাধ্যমে গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকসহ প্রেসক্লাবকে নিয়ে নানা মন্তব্য করায় তীব্র প্রতিবাদ করেছে গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয় ওই মামলার সাথে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তো দুরের কথা কোন সদস্যের ও কোন ইন্ধন বা দুরতম সম্পর্ক নেই। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য মোস্তফা কামাল সুমন প্রেসক্লাবকে টেনে আবোল তাবোল লিখছে।
অপরদিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নবী প্রধান তাকে নিয়ে মোস্তফা কামাল সুমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে মিথ্যাচার করেছে তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি
গোবিন্দগঞ্জে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সাবেক পৌর মেয়রসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নভেম্বর ১৭, ২০২৪


































