গোপাল মোহন্ত, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক, গোবিন্দগঞ্জ :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্বামী-স্ত্রী মিলে বাড়ীর চার পাশে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা সমন্বিত মিশ্র খামার এলাকার মানুষের কাছে একটি মডেল খামার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। খামারের অর্গানিক পদ্ধতির উৎপাদিত ফল-ফসল ও মাছ পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাজারে।
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সন্নিকটে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার এক নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালিয়ায় গ্রামীণ পরিবেশে একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর ঐকান্তিক চেষ্টায় গড়ে তোলা এই সমন্বনিত খামারটিতে রয়েছে ৪০ জাতের আম, আর ১০ জাতের কাঁঠাল, এ ছাড়াও রয়েছে মাল্টা, তেঁতুল, আমড়া, পেয়ারা, চালতা, সফেদা, সরিফা, আতাফল, গোলাপজাম, জাম, লিচু, পেঁপে, নটকন, নারিকেলসহ হরেক রকমের দেশী-বিদেশী মিশ্র ফল বাগান আর পুকুরে চাষ হচ্ছে দেশী কৈ, মাগুর, সিং এর পাশাপাশি নানা প্রজাতির মাছ আবার পাশের পুকুরে পালন হচ্ছে হাঁস। পুকুর পাড়ের বিশাল শেডে গড়ে তোলা খামারে লালন পালন হচ্ছে গরু আর কবুতর। আবার আম, কাঁঠাল, পেঁপে সহ বিভিন্ন গাছের ছায়ায় বস্তায় চাষ হচ্ছে আদা।
বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর অশোক কুমার সিংহ তার স্ত্রী ঝুমা রায়ের পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ৬বিঘা জমিতে ২০০১ সালে স্বামী-স্ত্রী যৌথ ভাবে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত এই বাণিজ্যক খামার। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রায় ২৩-২৪ বছরেই খামারটি এখন পরিপূর্ণ খামারে পরিনত হয়েছে। বছর জুরে এখানে নানা শাকসবজি ফলমুল, মাছ চাষের পাশাপাশি হাঁস, গরু, কবুতর পালন করা হচ্ছে। পুকুর পরে গাছের ছায়াযুক্ত পতিত জায়গায় চলছে বস্তায় আদা চাষ, এছাড়াও গরুর গোবর থেকে তৈরী বায়োগ্যাসে মেটানো হচ্ছে পারিবারিক জ্বালানি চাহিদা। সেই সাথে বিষমুক্ত অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফল ফসল ও মাছ পারিবারিক চাহিদা যেমন মেটাচ্ছে, তেমনি বাজারে বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন উদ্যোক্ত অশোক কুমার সিংহ ও তার স্ত্রী ঝুমা রায়। খামারের বিভিন্ন কাজে সহায়তার জন্য বেশ কয়েক জন শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ থানা মোড় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে বোয়ালিয়া এলাকায় এই খামারের অবস্থান।
সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা গেছে, পারিবারিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে তার গড়ে তুলেছেন বিশাল এক খামার। খামার ঘুরে দেখা গেছে পেঁপের সাথে সাথী ফসল হিসাবে চাষ হচ্ছে আদা। পুকুর পড়ের গাছের ছায়াযুক্ত পতিত জায়গায় চলছে বস্তায় আদা চাষ, খামার এক পাশে বজ্ব্র ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থাপিত বায়োগ্যাস প্লান্ট। যা দিয়ে চলে পারিবারিক রান্নার কাজ। আবার একপাশে রয়েছে দেশী বিদেশী নানা জাতের ফুলের সমৃদ্ধ বাগান। ফলে ফুলে ফসলে ভরা সমন্বিত খামারটি বেলা ডুবে যাওয়ার সাথে বিভিন্ন পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা। খামারের কার্যক্রম দেখতে আসা পাশর্^বর্তী গ্রামের খায়রুল জানান আসলেই খামারটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার তিনি বাড়ীর চারপাশকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে কাজে লাগিয়ে খামারটি গড়ে তুলেছেন। যা সত্যি অনুকরণ করার মত।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা আর একজন গৃহিনী হয়ে কিভাবে এমন একটি ফলে ফুলে ভরা সমন্বিত বহুমুখী কৃষি খামারে গড়ে তোলার অনুপেরণা পেলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে অশোক কুমার সিংহ বলেন, দেশের শাকসবজিতে বেশী লাভের আশায় একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করে। আবার অল্প সময়ে ফসলের আকার ও ওজন বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন সবজিতে হরমোন জাতীয় ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এধরণের পরিস্থিতি থেকেই চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর স্ত্রীর সহযোগিতায় তার পৈতৃক জমিতে প্রথমে শাকসবজির চাষ শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে আজকের এই অবস্থায় আসা। আমার ফল বাগানে আপেল আর আঙ্গুর ছাড়া সব ধরণের ফল রয়েছে। তবে তিনি বগুড়া শিবগঞ্জে মসল্লা গবেষণা কেন্দ্র ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ রকম সমন্বিত কৃষি খামারের কারনে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে নিজেরাও সবলম্বী হতে পারবেন। পাশাপাশি বছর জুরে উৎপাদিত পুষ্টি সমৃদ্ধ নানা ফল-সফল বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার পাশিপাশি পারিবারিক চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































