বগুড়া ব্যুরো ও গাবতলী প্রতিবেদক :
বগুড়ার গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী পরিবহনের জন্য রয়েছে দুটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু এর মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে অচল, আর অন্যটি চলছে চালকের মর্জি মতো। ফলে হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। জরুরি মুহূর্তে রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে গেলেই হাসপাতালের চালক বা সংশ্লিষ্টরা নানা অজুহাত দেন কখনো বলা হয় গাড়ি নষ্ট , আবার কখনো বাইরে আছে। অনেক সময় চালক হাসপাতালে উপস্থিত থাকলেও ফোন রিসিভ করেন না কিংবা রোগী পরিবহনে গড়িমসি করেন। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনরা অতিরিক্ত ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে বাধ্য হন।
স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি সরকারি তহবিলের মাধ্যমে সরবরাহ করা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা ভাড়ায় এই অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বপ্রাপ্ত চালক হোসাইন আলম স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তা বাস্তবে হচ্ছে না।
হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ১২ বছর ধরে কর্মরত চালক হোসাইন আলম হাসপাতালের কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। বেশিরভাগ সময় তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায় না। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকা সত্ত্বেও তিনি রোগী নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুর রহিম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে ফোন করলে প্রায়ই বলা হয় অ্যাম্বুলেন্স বাইরে আছে বা নষ্ট। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করা হয়। সরকারি নির্দেশনায় প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১০ টাকা হলেও চালক তাতে রাজি হন না।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের অনিয়ম-গাফিলতি চলছে। তারা বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএস কিট স্থাপন করা হলে গাড়ির অবস্থান ও চালকের গতিবিধি সহজেই জানা যাবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সামনে চালকের মোবাইল নম্বর ও অ্যাম্বুলেন্সের অবস্থান দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের দাবিও জানান তারা।
অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স চালক হোসাইন আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,গাবতলীতে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স আছে, কিন্তু রোগীর চাপ অনেক বেশি। কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছেন।”
এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন,তদন্ত সাপেক্ষে যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ইতোমধ্যে তার সেবা-সংক্রান্ত আচরণ নিয়ে কিছু প্রাথমিক অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি সকলের জন্য উন্মুক্ত ও কার্যকর করা হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
গাবতলী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চলছে চালকের মর্জিতে: ভোগান্তিতে রোগীরা
অক্টোবর ২৩, ২০২৫


































