প্রদীপ রায় জিতু, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) :
শিক্ষক নির্যাতন, হয়রানির ও চৌধুরী হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমানকে অন্যায় ভাবে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে বীরগঞ্জ উপজেলার নিবার্হী অফিসার ফজলে এলাহির প্রত্যাহারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে বীরগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী। পরে তাদের সাথে যোগ দেয় ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। আন্দোলন পুরো শহরে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধের কারণে সড়কে আটকা পড়ে কয়েক শত যানবাহন।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে বীরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক পরিবার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে বীরগঞ্জের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী ও আপম জনসাধারণ দুর্নীতিবাজ ইউএনও প্রত্যাহারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে রাখেএ সময় রাস্তায় ব্যাপক যানজট লক্ষ্য করা যায়।
মানবন্ধন সকাল ১০ টা থেকে শুরু হয়ে এবং পরে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বৈঠকের পর ও ইউএনও প্রত্যাহারের দাবি কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর বেলা ২ টায় অবরোধ তুলে নেওয়া নেওয়া যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
সকালে ইউএনও প্রত্যারের দাবিতে মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ কালে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধা অতিক্রম করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করে এবং মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা পরিষদের সামনে দিনাজপুর-পঞ্চগড় সড়ক অবরোধ করে। এ সময় সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী অবস্থান নেয়।
সমিতির আহবায়ক কবি নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর জেলা শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান, কবিরাজহাট বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাকছুদা খাতুন, আমিনা করিম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কুমার সরকার, খামার খড়িকাদম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাদের,আত্রাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা মানুষ গড়ার কারিগড়। আজকে মানুষ গড়ার কারিগড় হয়ে আমাদের রাজপথে আসতে হচ্ছে এই দুঃখের কথা। ইউএনও শিক্ষক নির্যাতন, হয়রানির কারনে শিক্ষক সমাজ আজ রাজপথে। ইউএনও মো. ফজলে এলাহী যোগদানের পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অসহনীয় ঘুষ দুর্নীতি এবং সকল স্কুল প্রধানের সঙ্গে অসৌজন্য মূলক আচরণ তার নিত্য দিনের কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। সুবিধাবাদী এই ইউএনও শিক্ষক কর্মচারীদের উপর অত্যাচারের সীমাহীন ও বর্ণনাতিত। ক্ষমতার দম্ভে তিনি শিক্ষকদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন এবং কথায় কথায় গালমন্দ করে থাকেন। কোন প্রকার কারণ ছাড়াই অহেতুক শিক্ষক কর্মচারীর বিল বেতনে স্বাক্ষর না করে কালক্ষেপণ সহ দেরিতে বিল প্রদান করেন। বীরগঞ্জের ইতিহাসে ইতোপূর্বে কোন ইউএনও এ ধরনের খারাপ আচরণ ও ঘুষ দুর্নীতি করেন নাই।
তারা আরো বলেন, ইউএনও ফজলে এলাহী নিয়ম বহির্ভূত, একক ক্ষমতা বলে চৌধুরী হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহমান খানকে অহেতুক বিধিবহির্ভূত সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। কবিরাজ হাট আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিদ্যালয়ে টাকার বিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করেছেন। বিভিন্ন কারণে বীরগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষাঙ্গনে চলছে চরম অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা। অতিষ্ঠ সকল শিক্ষক কর্মচারীসহ সাধারণ জনগন। এই ইউএনওকে দ্রæত প্রত্যাহার করা না হলে আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এস হাবিবুর হাসান ছুটে আসেন। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসেন। আলোচনা শেষে দুপুর ২টায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির আহবায়ক কবি নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম জানান, আলোচনায় ইউএনও প্রত্যাহারের আশ্বাসে আন্দোলন কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েছে এবং সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এস হাবিবুর হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































