আমন্ত্রণ ডেস্ক :
শরৎকালের আশ্বিন মাসে শুরু থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। যদিও কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় গরমের তীব্রতা ছিল বেশ। প্রকৃতিতে তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠে জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল। তবে গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিতে গরমের তীব্রতা কমেছে। স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মধ্যে। দেশে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হওয়া টানা বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষের কাজ করতে বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে। দিনমুজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ এমন বৃষ্টিতে অলস সময় কাটাচ্ছে বলে জানা যায়।
এদিকে বুধবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকায় ভারী বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুর ওপরেও পানি জমে যাওয়ায় রাস্তায় বেশ যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবারও থেমে থেমে হয়েছে বৃষ্টি।
আগামী ১০ অক্টোবরের পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে আরও বলা হয়, সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ পাঁচ বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারী বৃষ্টির ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের দেওয়া ভারী বর্ষণের সতর্কতায় এ তথ্য জানান।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনাল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের ছয়টি নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকা নদীবন্দর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করার কারণে যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে হাতিয়া, ঢাকা থেকে বেতুয়া, ঢাকা থেকে খেপুপাড়া, ঢাকা থেকে চরমোন্তাজ, ঢাকা থেকে রাঙ্গাবালী ও ঢাকা থেকে মনপুরা উপকূলীয় অঞ্চলের নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর কার্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এহতেশামুল পারভেজ বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের হাতিয়া, বেতুয়া, খেপুপাড়া, চরমোন্তাজ, রাঙ্গাবালী ও মনপুরা নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে তিনি জানান।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































