রফিকুল ইসলাম ফুলাল, দিনাজপুর :
“পারিবারিক আইনে সমতা আনি,নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করি” প্রতিপাদ্যকে নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’২৪ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন উপলক্ষ্যে দিনাজপুরে সংবাদ সম্মেলন । সোমবার (২৫ নভেম্বর) দিনাজপুর প্রেসক্লাবের প্রেস কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা শাখার সহ সভাপতি মনোয়ারা সানু‘র সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুলপ্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রুবিনা আকতার।
এসময় তিনি বলেন, সারা বিশ্বে ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়ে থাকে। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বিরোধী সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় প্রতিবছর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল শাখা পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই পক্ষ পালন করে।
২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর ২০২৪’আর্র্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন’-উপলক্ষ্যে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কর্মসূচী গ্রহন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা নির্মূল করা। এমতাবস্থায় শুধু আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করেই নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। এর জন্য চাই পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। চাই নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ও নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য তরুণদের ব্যক্তিমানুষ, সংগঠন,সরকার সকলকেই সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং যেখনেই নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা সেখানেই প্রতিবাদ ও রুখে দাড়াতে হবে।
বর্তমান সময়ে আমরা আরো লক্ষ্য করছি নির্যাতনের বিষয়টি পুরুষতান্ত্রিকতা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমনভাবে গেঁথে আছে যে অগণতান্ত্রিক ভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের জায়গায় থেকেও নারী পুরুষ বিভেদ সৃষ্টি করছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন,নারীবান্ধব প্রশাসন,জেন্ডার সংবেদনশীল পাঠ্যসূচী প্রণয়ন এবং সংবিধানের নীতিমালাসহ,নারীবান্ধব জাতীয় আর্ন্তর্জাতিক দলিল সমূহের বাস্তবায়ন, সিডোও সনদের সংরক্ষিত ধারা সমুহের থেকে সংরক্ষণ তুলে নেওয়ার মধ্যে দিয়েই নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করে সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হলে পুররুষতান্ত্রিকতা, ধর্মান্ধতা মৌলবাদ এবং বৈষম্যমূলক আইনের পরিবর্তন অত্যান্ত জরুরী। এছাড়াও সা¤প্রদায়িক গোষ্ঠী ও জঙ্গিদের দ্বারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ও সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের উপর হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলতে থাকলে নারী আন্দোলন বাধাগ্রস্থ হবে এবং নারীর স্বাধীন চলাচল ও উন্নয়নের ধারার গতি ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে পড়বে। সংবাদ সম্মেলনে গত ১ বছরে দিনাজপুর জেলায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। নারী ও শিশু আদালত এবং স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে নভেম্বর’২৩ হতে নভেম্বর’২৪ এই সময়কালে নারী ও শিশু ধর্ষণ মামলা হয়েছে – ২৩টি, নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে-২৮টি,শিশু নির্যাতন মামলা হয়েছে-০২টি,যৌতুকের জন্য নির্যাতিত মামলা হয়েছে -২৭৬ টি এবং অন্যান্য মামলা হয়েছে – ৩৫৭ টি।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্দ্যোগে পর্যায়ক্রমে যে সমস্ত কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে তা হল সংবাদ সম্মেলন, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সভা, নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে তরুণ-তরুণীদের সাথে মতবিনিময় সভা ও আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’২৪ ও বিশ্বমানবাধিকার দিবস উপলক্ষে সমাবেশ/র্যালি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি কানিজ রহমান,জেলা কমিটির সহ:সভাপতি মিনতি ঘোষ ও রতœা মিত্র, সহ: সাধারন সম্পাদক রুবি আফরোজ । এছাড়াও এসময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লিগ্যাল এইড ও আন্দোলন সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী । সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও স্থানীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































