বগুড়া ব্যুরো :
ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশী সহকারী হাইকমিশনার অফিসে হামলা ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে বগুড়ার পুÐ্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ শোভাযাত্রা বের করে।
আজ রোববার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় বগুড়া সদরের গোকুল পুÐ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে এই শোভাযাত্রা বের করা হয়। এই শোভাযাত্রায় টিএমএসএস বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃর্স্ফূতভাবে অংশগ্রহণ করে। এরপর শোভাযাত্রাটি মাটিডালি হয়ে সাতমাথা দিয়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বগুড়ার শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় প্রায় ১০ হাজার ছাত্র জনতা ও শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হোসনে-আরা বেগম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র, বিওটি ভাইস চেয়ারম্যান রোটা. ডা. মতিউর রহমান, সম্মানিত সদস্য আয়শা বেগম, ফয়জুন নাহার, রাকিবা সুলতানা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মুহা. সুজন শাহ-ই-ফজলুল, পরিচালক (অর্থ) আবু জাহিদ জগলুল পাশা, রেজিস্ট্রার ড. এস. জে. আনোয়ার জাহিদ, বিওটি সমন্বয়ক খোরশেদ আলম, উপপরিচালক (জনসংযোগ ও প্রশাসন) জাহেদুল আলম, টিএমএসএস এর প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জি. হাবিবুর রহমান, টিটিইআই এর অধ্যক্ষ ইঞ্জি. রিহান ইসলাম, টিএমএসএস ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর অধ্যক্ষ ইসরাইল হোসেনসহ পুÐ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
শোভাযাত্রা শেষে বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজার কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন পুÐ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোতাসিম বিল্লাহ জিহাদ, ইংরেজি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম এবং কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রুবাইয়া রিফাত রিয়া।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্ন্তবতীকালীন সরকার দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতকল্পে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাকরণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দূরীকরণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পুÐ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশ্বাস করে যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একটি সাম্য ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানসহ সমাজ গঠনে বর্তমান সরকার বাস্তব ও কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে।
সা¤প্রতিককালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী দূতাবাসে ভাঙচুর এবং জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ এবং এর তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে যথাযথ ক‚টনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ভারত সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ একটি উদার ও অসা¤প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমাদের দেশে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি রক্ষা এবং ধর্মীয় সহাবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সকলের কাম্য। জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনন্য ভ‚মিকা পালন করেছে। এই বিষয়ে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাই এবং ভবিষ্যতেও দেশ বিরোধী চক্রান্ত রুখে দিতে ও দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতি দেশ প্রেমিক-নাগরিক হিসাবে আমরা প্রতিশ্রæতিবদ্ধ।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































