আতিউর রাব্বী তিয়াস, আক্কেলপুর :
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মনজুরুল আলমের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে উপজেলাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হয়। ঘন্টাব্যাপী ধরে চলা এ মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মী, জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী বাদশা, যুগ্ম আহবায়ক মো. আফাজ উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের নেতা রাশেদুল আলম সবুজ, বিএনপি নেতা রিয়াদ মো. জিয়াউদ্দিন চৌধুরী সিকান্দার, বিএনপি নেতা মো. আমিনুর রশিদ ইকু, বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মো. রফিকুল ইসলাম চপল, কাশিড়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক হেদাতুল ইসলাম, আক্কেলপুর সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক মেহেদী হাসান, তিলকপুর ইউপির সদস্য মামুনুর রশিদ পিন্টু, আক্কেলপুর পুরাতন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, আক্কেলপুর পৌরসভার কর্মচারী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. মাহফুজ হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তরা আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলমকে সৎ ও জনবান্ধন কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে তার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা বলেন, আমরা ইউএনও সাহবের বদলির আদেশের খবরে মর্মাহত হয়েছি। ইউএনও সাহেবের যোগ্য নেতৃত্বের কারণে আক্কেলপুর উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। এই মুর্হুতে ইউএনও বদলি আক্কেলপুর উপজেলার অনেক ক্ষতি হবে। আমরা ইউএনওর বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান কমল বলেন, ইউএনও মনজুরুল আলম একজন সৎ ও জনবান্ধন কর্মকর্তা। হঠাৎ করেই আমরা তার বদলির আদেশ হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা ইউএনও সাহেবের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর চৌধুরী বাদশা বলেন, ইউএনও সাহেবের ভালো ভূমিকায় আমাদের উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। আমরা ৫ আগষ্টে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। ইউএনও সাহেব উপজেলাকে ভালো রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ইউএনও সাহেব কাউকে কখনো হয়রানী করেননি। আমরা ইউএনও সাহেবের বদলির আদেশ প্রত্যহারের দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা জামায়াতের নেতা রাশেদুল আলম সবুজ বলেন, ইউএনও সাহেবে একজন দক্ষ ও জনবান্ধন কর্মকর্তা। আমরা তার বদলির আদেশে হতাশ হয়েছি। ইউএনওর কারণে এখানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার প্রেতাত্বরা মাথা চাড়া দিতে পারেনি। আমরা ইউএনওর বদলির আদেশ প্রত্যাহার চাচ্ছি।
শিক্ষক হেদায়তুল ইসলাম বলেন, ইউএনও মহোদয় একজন শিক্ষাবান্ধন কর্মকর্তা। তার বদলির আদেশে আমরা শিক্ষকেরা চরম হতাশ হয়েছি। আমরা ইউএনও মহোদয়ের বদলির আদেশ প্রত্যাহার চাচ্ছি।
জানতে চাইলে ইউএনও মনরুল আলম বলেন, আমি এখানে এক বছর আগে ইউএনও হিসাবে যোগদান করেছি। আমি আমার দায়িত্বের মধ্যে উপজেলাবাসীকে সাধ্যমত সেবাদানের চেষ্টা করেছি। আমার স্বাভাবিক বদলি হয়েছে। আমি সরকারি আদেশ মানতে বাধ্য। এলাকার লোকজন হয়তো আমাকে ভালোবাসেন। একারণে তারা আমার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। সরকার আমাকে যেখানে যেতে আদেশ দেবেন সেখানেই যাব।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































