বদিউদ–জ্জামান মুকুল সোনাতলা (বগুড়া) :
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বাণিজ্যিক ও শিল্পনগরী এলাকা সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশন আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে ছাত্র-জনতা প্রায় তিন ঘন্টা দুটি আন্তঃনগর ট্রেন অবরোধ করে রাখে। এতে করে ট্রেনের সিডিউলে বিপর্যয় ঘটে। পাশাপাশি রেলযাত্রীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। এদিকে ট্রেন থামাতে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায় প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা ৭১৩/৭১৪ আন্তঃনগর করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি বুড়িমারি যাওয়ার সময় সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টায় সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশনে পৌছালে ছাত্র-জনতা প্রায় আড়াই ঘন্টা ওই ট্রেনটি অবরোধ করে রাখে। এরপর লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা ৭৫১/৭৫২ ট্রেনটি বেলা দেড়টায় সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশনে পৌছালে প্রায় ৩০ মিনিট ওই ট্রেনটি ছাত্র-জনতা অবরোধ করে রাখে। এই দীর্ঘ সময় ওই দুটি ট্রেনের যাত্রীরা বিরক্ত অনুভব করে।
এ বিষয়ে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী শারমিন আকতার বলেন, তিনি ভোরে সান্তাহার থেকে পাটগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছেন। পথে প্রায় আড়াই ঘন্টা ট্রেনের যাত্রা বিরতীতে ছেলেমেয়ে নিয়ে তিনি চরম ভোগান্তির কথা জানান। এছাড়াও হেলেনা বেগম, পারভীন খাতুন সহ অসংখ্য রেলযাত্রী ভোগান্তিতে অস্বস্তিকর অবস্থার কথা জানান।
এদিকে ট্রেনের যাত্রা বিরতীর দাবিতে ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচী চলাকালে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখেন, জোড়গাছা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও দিগদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ সহিদুল হক টুল্লু, ইঞ্জিনিয়ার নাসিদুল হক মাসনবী, তানভীর আহমেদ সোহান, ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা শিপন মিয়া মিঠু, আতিকুর রহমান আজম, মেহেদী হাসান, মাসুদ রানা, রফিক মেম্বার, সুমন মিয়া, শিবলু মিয়া, লাকি মেম্বার, এরশাদ, নয়ন রহমান, সাবিরুল ইসলাম প্রমুখ।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৩/১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশন। এটি একটি বাণিজ্যিক ও শিক্ষা নগরী এলাকা। এই এলাকায় জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈয়দ আহম্মদ কলেজ হাট, সৈয়দ আহম্মদ বিশ^বিদ্যালয় কলেজ, সুখানপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়, সুখানপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দ আহম্মদ মডেল আলিম মাদ্রাসা সহ অসংখ্য এনজিও প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বীমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশনটি চালু হয়। ষ্টেশনটি সংলগ্ন জেলার বৃহৎ বেসরকারী সৈয়দ আহম্মদ কলেজ। সংশ্লিষ্ট কলেজে ১৭টি বিষয়ে অনার্স ও ৮টি বিষয়ে মাষ্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। কলেজটিতে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ওই কলেজে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ট্রেনযোগে আসা যাওয়া করে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট এলাকাটি একটি বাণিজ্যিক এলাকা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা সৈয়দ আহম্মদ কলেজ হাটে ট্রেনযোগে মালামাল আনা নেওয়া করে। এছাড়াও ওই এলাকার শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ট্রেনযোগে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। এছাড়াও প্রতিনিয়ত হাজার হাজার রেলযাত্রী লোকাল ট্রেনে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। এতে করে সরকার প্রতিমাসে মোটা অংকের রাজস্ব আয় করে।
আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রেল বিভাগ শুধুমাত্র পণ্য ও টিকিটের মাধ্যমে প্রায় ১৪ কোটি টাকা আয় করেছে ওই ষ্টেশন থেকে।
দীর্ঘদিন যাবত ওই এলাকা সহ আশ পাশের এলাকাবাসী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র জনতা ওই ষ্টেশনে আন্তঃনগর ৭১৩/৭১৪ করতোয়া, ৭৬৭/৭৬৮ দোলনচাঁপা ও ৭৫১/৭৫২ লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতীর দাবি তুলে আসছে। এমনকি এলাকাবাসীর পক্ষে আন্তঃনগর ওই ট্রেনগুলো ষ্টপেজের দাবিতে সৈয়দ আহম্মদ কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুজ্জামান স্বাক্ষরিত গত ৮/১০/২০২৪ তারিখে রেল উপদেষ্টার বরাবর আবেদন করেন। এরপর গত ৩১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে মোঃ আব্দুল আউয়াল সহকারী চীপ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পি) পশ্চিম আবেদনকটি সুপারিশ করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাটকে অবগত করেন। পরে গত ১০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে লালমনিহাট অঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত পত্রটি সুপারিশ সহ চীপ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম) বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহী অঞ্চলে প্রেরণ করেন। পরিশেষে পত্রটি জেনারেল ম্যানেজার (পশ্চিম) এর কার্যালয়ের ডেপুটি চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম) মোশা হাসিনা খাতুন স্বাক্ষরিত পত্রটি অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) বাংলাদেশ রেলওয়ে রেলভবন ঢাকাকে সুপারিশ সহ ২ মিনিট যাত্রা বিরতী দেওয়া যেতে পারে বলে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপারেশনকে অবগত করেন।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মিলাদুন নবী বলেন, বিষয়টি থানা পুলিশ অবগত হওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে এসে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সবাইকে অনুরোধ করে ট্রেনটি প্রায় আড়াই ঘন্টা পর ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামানিক বলেন, ছাত্র জনতার ট্রেন অবরোধের বিষয়টি তিনি অবগত হওয়ার সাথে সাথে রেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। অচিরেই ওই ষ্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের ব্যবস্থা হবে।
উল্লেখ্য, ট্রেন অবরোধ করাকালীন সময়ে লালমনির হাট ট্রেনটি দ্রæত বেগে বেলা সোয়া ১টার দিকে যখন ওই ষ্টেশনের দিকে ছুটে আসছিল তখন অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী ষ্টেশনের উত্তর পাশের্^ প্রায় হাফ কিলোমিটার দূরে লাল কাপড়ের ব্যানার টানিয়ে রেল লাইনে অবস্থান করছিল। ট্রেন চালক বিষয়টি টের না পাওয়ায় অল্পের জন্য দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় ওই শিক্ষার্থীরা।
আমন্ত্রণ/এসিজি
অল্পের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রাণে রক্ষা সৈয়দ আহম্মদ কলেজ ষ্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে অবরোধ
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৪


































