আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। দুই পা ও একটি হাত নিস্ক্রিয়—শুধু বাঁ হাতের ভরসায় এগিয়ে চলা। তবুও থেমে থাকেননি ধুনটের নাইছ খাতুন ওরফে হাসি। বাবার কোলে চড়ে ১৮ বছর ধরে বিদ্যালয়-কলেজে যাতায়াত করে এবার অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ৩.০২ গ্রেড। শুক্রবার অনলাইনে ফল জানার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে কেঁদে ফেলেন নাইছ; উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে।
ধুনট উপজেলার বহালগাছা গ্রামের দরিদ্র পরিবারে ২০০১ সালে জন্ম নেন নাইছ। বাবা নজরুল ইসলাম ও মা আকতার জাহানের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। জন্ম থেকেই দুই পা ও ডান হাতে শক্তি না থাকায় হাঁটতে–দাঁড়াতে পারেন না। বসা অবস্থায় বাঁ হাত দিয়ে লিখেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন।
ছয় বছর বয়সে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন নাইছ। সেখান থেকে পঞ্চম শ্রেণি শেষে পড়েন বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ে। ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণ হন ৩.৫৫ পয়েন্ট নিয়ে। এরপর ২০১৯ সালে বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা বহুমুখী মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২.৭৫ পয়েন্ট অর্জন করে।
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্সে। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে এবার প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।
নাইছের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, মেয়ে জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। অনেক ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়েছি, কিন্তু কোনো উন্নতি হয়নি। তবুও সে কখনো হাল ছাড়েনি। তার ইচ্ছাশক্তিই আজ তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।”
নাইছ খাতুন বলেন, শরীরে শক্তি নেই—তাই কী হয়েছে? মনোবল আছে। আমি কারও বোঝা হতে চাই না। একসময় বাবার কোলে গেলে মানুষ আড় চোখে তাকাত। এখন সবাই ভালোবাসে। উচ্চশিক্ষা অর্জন করে শিক্ষকতা পেশায় জীবন গড়তে চাই।
অদম্য সংগ্রাম, অটুট মনোবল আর বাবার অসীম ভালোবাসায় বড় হওয়া নাইছ আজ এলাকার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































