আমন্ত্রণ ক্রীড়া ডেস্ক :
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত, যার অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় আগামী হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্সেনাল এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।
এই ম্যাচটি কেবল একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং গত মৌসুমের সেমিফাইনালের অমীমাংসিত হিসাব চুকানোর এক সুবর্ণ সুযোগ মিখেল আরতেতার শিষ্যদের সামনে।
গানার্সদের অন্দরমহলে শোনা যাচ্ছে ‘প্রতিশোধের’ গুনগুন, গতবার সেমিফাইনালে পিএসজির কাছে হারলেও আর্সেনাল শিবিরের বিশ্বাস ছিল—মাঠের পারফরম্যান্সে তারাই ছিল সেরা। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ২০০৬ সালের পর নিজেদের প্রথম ফাইনালে এসে ক্লাব ইতিহাসের প্রথম ইউরোপীয় মুকুট জিততে মরিয়া উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
জানা যায়, ২০০০-এর দশকের সেই রোমাঞ্চকর ফাইনালগুলোর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দীর্ঘকাল একটি সত্যিকারের ‘ক্ল্যাসিক’ ফাইনালের অপেক্ষায় ছিল। ২০২৬ সালের এই দ্বৈরথ সেই খরা কাটাতে পারে। কারণ এতে মুখোমুখি হচ্ছে এই মুহূর্তে ইউরোপের সেরা দুটি দল।
আর্সেনাল যেখানে মৌসুমের প্রথমার্ধে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে, সেখানে লুইস এনরিকের পিএসজি নক-আউট পর্বে দেখিয়েছে তাদের দানবীয় রূপ। বিশেষ করে সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে পিএসজির রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের যে মিশেল দেখা গেছে, তাকে অনেকেই পেপ গার্দিওলার স্বর্ণালী সময়ের বার্সেলোনার সাথে তুলনা করছেন।
তবে এই ফাইনালকে ঘিরে মাঠের বাইরেও চলছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা। একদিকে মার্কিন পুঁজি ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর আর্সেনাল, অন্যদিকে কাতারি মালিকানাধীন এবং রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ‘স্পোর্টসওয়াশিং’ প্রকল্পের তকমা পাওয়া পিএসজি।
এই যুগে এই দুই ক্লাবের লড়াইকে অনেকেই ‘ফুটবলের আত্মার লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। পিএসজি যদি শিরোপা ধরে রাখতে পারে, তবে রিয়াল মাদ্রিদের পর আধুনিক যুগে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জেতার অনন্য কীর্তি গড়বে তারা।
কৌশলগত দিক থেকেও ম্যাচটি হতে যাচ্ছে এক ধ্রুপদী লড়াই। লুইস এনরিকের পিএসজি যেখানে মাঠের প্রশস্ততা ব্যবহার করে খভিচা কভারাতসখেলিয়া গতি আর ব্যক্তিগত জাদুতে প্রতিপক্ষকে তছনছ করতে পছন্দ করে, সেখানে আরতেতার আর্সেনাল খেলবে গাণিতিক শৃঙ্খলায়। পিএসজির শৈল্পিক আক্রমণের বিপরীতে আর্সেনালের প্রধান অস্ত্র হতে পারে তাদের জমাট রক্ষণ এবং সেট-পিস দক্ষতা।


































