আমন্ত্রণ ডেস্ক :
অবশেষে ধর্ষণের শিকার শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় ঘটনায়থানায় মামলা দিয়েছেন ভুক্তভোগীর মা, ভেস্তে গেছে আপস-মীমাংসারর চেষ্টা। গ্রেপ্তার পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে ধর্ষক নূরুল ইসলাম দয়াল (৬৫)।
ঘটনাটি ঘটেছে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর মালিপাড়া এলাকায়। ওই এলাকার ১২ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে শিশুটির মা গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নূরুল ইসলাম দয়ালের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ওরফে দয়াল (৬৫) একই গ্রামের মৃত ইউসুফ উদ্দিনের ছেলে। পেশায় একজন ভাঙরি ব্যবসায়ী।
মামলা দায়েরের আগে ঘটনাটি জানা জানি হলে দেড় লাখ টাকার দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়া আশ্বাসে স্থানীয়ভাবে একটি গোপন আপস-মীমাংসার মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির বিয়ে দেওয়া হয় ধর্ষক নূরুল ইসলাম দয়ালের সঙ্গে।
থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই শিশুটির মা একজন চাতাল শ্রমিক এবং বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্থ হওয়ায় ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালান। অভিযুক্ত নুরুল ওই শিশুটির প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। এই সুযোগে শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রæয়ারি নুরুল ইসলাম দয়াল শিশুটিকে ফুসলিয়ে গ্রামের পাশে একটি ভুট্টা ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন উভয়পক্ষ। আসামী নুরুল ধর্ষণের বিষয়ে কাউকে না জানানোর জন্য বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।
শিশুটির পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা জানান, গত ৬ মাস আগে নানীর জন্য দোকানে পান আনতে গিয়েছিল শিশুটি। পথিমধ্যে নুরুল ইসলাম দয়াল শিশুটিকে মুখ চেপে ধরে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে হত্যার হুমকি দেয় নুরুল ইসলাম দয়াল। মাসখানেক আগে শিশুটির চেহারায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে তার পরিবারের লোকজন। পরে পরীক্ষা করে দেখেন যে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।সপ্তাহখানেক আগে নুরুল ইসলাম দয়াল স্থানীয় কয়েকজন লোকজনকে সাথে নিয়ে শিশুটির পরিবারের সাথে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। মীমাংসার নাটক সাজিয়ে শিশুটির পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেয়ার আশ্বাসে অন্তঃসত্ত্বা শিশুটিকে বিয়ে দেয়া হয় ওই নূরুল ইসলাম দয়ালের সাথে। একইসাথে কথিত বিয়ের কথা বলে একটি খাতার মধ্যে শিশুটির স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, হঠাৎ করে জানতে পারি আমার মেয়ে গর্ভবতী। আমি নিজেই অসুস্থ, চেয়েচিন্তে খাই, মান সম্মানের ভয়ে এবং কয়েকজনের চাপাচাপিতে ওই নুরুলের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়েছি। দেড় লাখ টাকা আর দুই শতক জমি দিতে চয়েছে আমাদের। তবে টাকা এবং জমি কিছু পাই নাই। আমি নুরুলের শাস্তিসহ উপযুক্ত বিচার চাই।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচাপর্জ (ওসি) আব্দুল লতিব শাহ্ জানান, শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত¡া। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযুক্তসহ তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (৭ মে) শিশুটির মা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। একইসাথে যারা বেআইনিভাবে এই আপোষ-মীমাংসার সঙ্গে জড়িত ছিল, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতেই ওই শিশুটির বাড়িতে গিয়ে শিশুটি ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেন ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি শীতের সময়। ১২ বছর শিশুকে ফুসলিয়ে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে লোকলজ্জার ভয়ে এবং মেয়েকে দেড় লাখ টাকা ও ২ শতক জমি লিখে দেয়ার কথা বলে কাজী ডেকে বিয়ের ব্যবস্থা। কিন্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কথা না রাখায় বিষয়টি জানাজানি হয়। পরিবারের সদস্যরা আমাদেরকে সকল ঘটনা বলেছেন। এই সংক্রান্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়েরকৃত মামলার আসামীকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
আমন্ত্রণ/এজি
































