বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
সকাল সাড়ে সাতটা থেকে জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই শহরের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়ছে চোখে পড়ার মতো। শীত আর কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোরেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সারি আরও দীর্ঘ হয়ে কেন্দ্র ছাড়িয়ে পাশের সড়ক পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, নারী ও নতুন ভোটারদের উপস্থিতি আগের চেয়ে বেশি।সকাল সাড়ে ৭টায় বগুড়া- ৬ সদর আসনের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা শহরের শিববাটি হাসনা জাহান কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।
সকাল সকাল পৌনে ৮টায় শহরের সেউজগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবিদুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর পর প্রথম ভোট দিলাম। খুবই ভালো লাগছে, আমি নিজেও অত্যন্ত আনন্দিত। আওয়ামী লীগের আমলে ভোট দেওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মানুষ ঈদের মতো এই দিনটিকে উদযাপন করবে।
নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বগুড়ার প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। তবে আমাদের প্রতিপক্ষ বন্ধুরা বিভিন্ন জায়গায় মব সৃষ্টি করছে। আমাদের কর্মী ও এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে তারা। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে আবিদুর রহমান বলেন, এখানে প্রার্থী কতটা হেভিওয়েট, সেটি বড় বিষয় নয়; জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। সব দলের শাসন-দুঃশাসন দেখে মানুষ আজ নতুনত্বের পক্ষে।
শহরের মাটিডালি উচ্চ বিদ্যালয কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা আব্দুল করিম সরকার বলেন, দীর্ঘদিন পর জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিলাম। উৎসবমুখর পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশা আর শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সারি আরও দীর্ঘ হয়ে কেন্দ্র ছাড়িয়ে সড়ক পর্যন্ত পৌঁছেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান (ধানের শীষ), জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি (তারা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নূরী (মই)।
বগুড়া সদর উপজেলা প্রশাসক ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার সদর আসনের ১৫০টি কেন্দ্রের সবকটিতেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। এছাড়াও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশের মোবাইল টিম টহল দিচ্ছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোট গ্রহণ চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আমন্ত্রণ/এজি


































