প্লাবন শুভ ও চন্দ্রনাথ গুপ্ত :
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্প ট্র্যাজেডি রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে আটতলা রানা প্লাজা ধসে পড়লে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ শিল্প-দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যান ১ হাজার ১৩৮ জন। আহত ও জীবিত উদ্ধার করা হয় প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিককে।
সেই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কাজীহাল ইউনিয়নের ডাঙ্গা গ্রামের আতাউর রহমানের স্ত্রী গুলশানে জান্নাত ওরফে শাবানা। তখন তার বয়স ছিল ২৭ বছর। রানা প্লাজার ষষ্ঠতলায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। দুর্ঘটনার পর তাকে আর পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের তালিকায় এখনও নাম আছে শাবানার।
শাবানার স্বামী আতাউর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও স্ত্রীর সন্ধান পাইনি। নিখোঁজ তালিকায় শাবানার নাম থাকায় ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছি। কিন্তু পাইনি স্ত্রীকে কিংবা তার মরদেহ। সেদিনের ঘটনায় এলোমেলো হয়ে যায় আমার সাজানো-গোছানো সংসার। মা-হারা শিশুদের অনেক কষ্টে লালন-পালন করছি। স্ত্রীকে হারানোর ব্যথা আজও বয়ে বেড়াই। স্মৃতিগুলো মনে পড়ে।’ আতাউর বলেন, ‘ওই সময় আমাদের ছেলে সাজ্জাদ আহম্মেদ সজীবের বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর। এখন তার বয়স ১৮। সে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। মেয়ে সোহানা আফরিন সানুর বয়স ছিল ৩ বছর। বর্তমানে তার বয়স ১৪। সে বর্তমানে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। আজ তাদের মা থাকলে কত খুশি হতো।’ শাবানার মেয়ে সানু বলেন, ‘মায়ের চেহারা মনে নেই। মাকে খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করে। আজ মা থাকলে কত আদর করত!’
আজ ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১১ বছর আজও শাবানার খোঁজে তারা
এপ্রিল ২৪, ২০২৪


































