দৈনিক আমন্ত্রণ, পার্বতীপুর প্রতিবেদক :
ঈদের পর থেকেই দিনাজপুরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দামে ধস নেমেছে। রমজানের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় বাজারগুলোতে কেজিপ্রতি শসা বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। সেই শসা এখন বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৩ টাকায়। একইভাবে অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন, কাঁচামরিচ, করোলাসহ প্রায় সব সবজি। এতে ক্রেতারা খুশি হলেও বেশি লোকসান হওয়ায় বিপদে আছেন চাষিরা।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) পার্বতীপুর পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, শসা ৩ টাকা, বেগুন ৫ টাকা, করোলা ১২ টাকা, টমেটো ১০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ১৪ টাকা, পটোল ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১৭ টাকা, সজিনা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ১০ থেকে ১২ টাকায়।
চণ্ডীপুর ইউনিয়নের পূর্ব মেড়েয়া গ্রামের কৃষক এন্তাছুর রহমান দেড় একর জমিতে শসা চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকার মতো। প্রতিদিন ১৫ মণ শসা ক্ষেত থেকে তোলা হচ্ছে। বিক্রি করছেন ৩ টাকা কেজি দরে। শ্রমিক ও পরিবহন খরচ তুলতে হিমশিম অবস্থা তাঁর। পৌর এলাকার হামিদুল ৪০ শতক জমিতে শসা আবাদ করেছেন।
কৃষক এন্তাছুর রহমান ও হামিদুল বলেন, খুচরা বিক্রেতারা স্থানীয় বাজারেই ১৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। আমরা ১০ টাকা পেলেও লাভ হতো। কিন্তু পাইকাররা যে দাম হাঁকাচ্ছে তাতে মজুরি ও পরিবহন খরচ উঠবে না। শসা, বেগুন ও টমেটো ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ তারাই বাজারে কোনো কোনো সবজি দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন।
রামপুর ইউনিয়নের ধোধারপাড়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম ৩০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। বিক্রি করছেন সর্বোচ্চ ৫ টাকা কেজিতে। এতে ক্ষেত থেকে বেগুন তোলা বাবদ যে খরচ, তাই ওঠাতে কষ্ট হচ্ছে তাঁর। তাই বেগুন তোলা বাদ দিয়েছেন। এখন ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে। বোর্ডের হাট গ্রামের হাছিনুর রহমান ৫০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছেন। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে ১০০টির মতো লাউ তুলছেন। কিন্তু দাম পাচ্ছেন প্রতি পিস ১০-১২ টাকা। কমপক্ষে ২০ টাকা করে পেলে কিছু লাভ থাকত বলে জানান এই কৃষক। বাজারে সবজি কিনতে আসা ভ্যানচালক নজরুল ইসলাম মাত্র ১০০ টাকায় ব্যাগ ভর্তি সবজি কিনেছেন। তাঁর মতে, কম দাম ভালো– তবে এতটা নয়।
শহরের সবজি আড়তদার মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, মধ্য রমজান থেকে সবজির দাম কমতে শুরু করে। আগামী ১৫ দিন এমন অবস্থা চলতে পারে। পাইকারি বাজারে দাম কম হলেও ব্যবসায়ীরা প্রতিটি সবজি কেজিতে ১০-১৫ টাকা লাভ ধরে বিক্রি করছেন। বিষয়টি দেখার দরকার কর্তৃপক্ষের।
কৃষি কর্মকর্তা রাজব হোসাইন বলেন, কৃষি বিভাগের তদারকি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পার্বতীপুরে এবার রেকর্ড পরিমাণ ১ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ হয়েছে। উৎপাদান ভালো হওয়ায় দাম কমে গেছে। তবে বেশি দিন এই অবস্থা থাকবে না। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তারা। ফসলের দাম না পেলে চাষে আগ্রহ হারাবেন কৃষক।


































