বগুড়া ব্যুরো ও শাজাহানপুর প্রতিবেদক :
বগুড়ার শাজাহানপুরে সাদিয়া বেগম (৩০) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং তার অবুঝ দুই শিশু সন্তানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্বামী শাহাদত হোসেনকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার খলিশাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের খলিশাকান্দি স্কুলপাড়া গ্রামে শাহাদাৎ হোসেন নামে এক সেনাসদস্য স্ত্রী -সাদিয়া বেগম ও তাদের ৭ মাস বয়সী সাইফ নামে এক পুত্র সন্তান এবং ২ বছর বয়সী সাইফা নামে এক কন্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। চাকুরীর কারণে তিনি বাহিরে থাকতেন। মঙ্গলবার সকালে মা ও দুই শিশু সন্তান ঘুম থেকে না ওঠায় এবং ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখতে পান—মায়ের মরদেহ রশিতে ঝুলছে এবং বিছানায় দুই শিশুর গলাকাটা মরদেহ পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা।
নিহত সাদিয়ার স্বজনরা জানান, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কলহ চলছিল। গত শুক্রবার ছুটিতে বাড়ি আসেন সেনা সদস্য শাহাদত। সোমবার দিবাগত রাত এবং মঙ্গলবার সকালেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
নিহত সাদিয়ার খালা কল্পনা আক্তার দাবি করেন, সোমবার শাহাদত হোসেন শ্বশুরের কাছে একটি মোটরসাইকেল দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। মঙ্গলবার সকালে আমরা শুনি এমন ঘটনা। এসে দেখি দুই সন্তানকে গলা কেটে মেরে তাকে ঘরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখছে। আমরা এর কঠিন বিচার দাবি করছি।
শাহাদত হোসেনের পরিবার সূত্রে জানাযায়, ছয় বছর আগে সেনা সদস্য শাহাদত হোসেনের সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। গত শুক্রবার শাহাদত ছুটিতে বাড়ি ফেরেন। মঙ্গলবার সকালের নাস্তা তৈরি করার পর সাদিয়া তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে শয়নকক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। সে সময় শাহাদত হোসেন পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। অনেক ডাকাডাকির পরও ভেতর থেকে সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করা হয়। তখনই সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় সাদিয়ার নিথর দেহ এবং বিছানায় দুই শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মা তার দুই সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন বা অন্য কোনো কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এঘটনায় স্বামী শাহাদত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘তিনটি মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।’
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর শাহাদত হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































