বুগুড়া ব্যুরো :
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেল লাইনের দাবি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনে দাবি। রাজধানী ঢাকা সঙ্গে দূরত্ব প্রায় সময় ১১২ থেকে ১৩০ কিলোমিটার কমে যাবে। অবশেষে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্প মানুষের মনে আশা জাগিয়েছে। ৭ বছর ধরে থমকে থাকার পর আবারও গতি ফিরছে এই প্রকল্পের। বগুড়া- সিরাজগঞ্জ রেল পথের জন্য অধিগ্রহণকৃত বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে জমির ক্ষতি পূরণের টাকা দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড় হওয়ায় প্রকল্পের কাজের গতি ফিরে এসেছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পণ্য পরিবহন ছাড়াও মানুষ যাত্রা নিরাপদ হবে। সড়ক পথে মহাসড়কে যানজট কমবে। কমবে মানুষের দুর্ভোগ।
বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেল লাইন না থাকায় ট্রেনগুলো সান্তাহার, নাটোর ও ঈশ্বরদী হয়ে ২১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতো। ২০১৮ সালে একনেকের বৈঠকে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজের রেল লাইনের প্রকল্পের নির্মাণের অনুমোদন পায়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে প্রকলপের কাজ থেমে যায়। প্রায় ৭ বছর পর প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা জমির মালিকদের প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরুর কায়েস জানান, তারা গত মাস থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিগ্রহণের টাকা দিচ্ছে।
এই রেললাইন চালু হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের প্রায় দূরত্ব ১১২ থেকে ১৩০ কিলোমিটার কমে যাবে। এর কারণে সময় বাঁচবে প্রায় ৪ ঘন্টা।
উত্তরাঞ্চল দেশের শষ্য ভান্ডার। বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষি পণ্য ও শিল্প যন্ত্রপাতি পরিবহণের গতি ফিরে আসবে। সড়ক পথে এই সব পণ্য পাঠাতে অনেক খরচ বেশি বলে জানান, বিসিকে কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারি আল-মদিনা মেটালের স্বত্বাধিকারি আব্দুল মালেক।
তিনি জানান বগুড়া-ঢাকা সরাসরি রেল পথ চালু হলে পরিবহণ ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসেব। মহাস্থান সবজি হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন জানান, সড়ক পথে ট্রাকের কৃষি পণ্য পাঠাতে পরিবহণ ব্যয় অনেক বেশি। ঢাকার সঙ্গে সরাসরি রেলপথ চালু হলে ট্রেনে পণ্য খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে।
বগুড়া সিরাজগঞ্জ রেলপথের দৈর্ঘ ৭২ দশমিক ২৮ কিলোমিটার। এরমধ্যে বগুড়া ৯৬০ কোটি ১০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বগুড়া অংশের প্রাক্কলিত ব্যয় ১১শ ১৭ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ১৮৭ টাকা পাওয়া গেছে। গত ২৩ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখা থেকে তিন জনকে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে ।
এদিকে সিরাজগঞ্জ অংশের ভূমি অধিগ্রহণের টাকা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, এই প্রকল্পের অধিনে ৯টি রেল স্টেশন হবে। এর মধ্যে বগুড়া অংশে ৫টি এবং সিরাজগঞ্জ অংশে ৪টি। বগুড়ার সান্তাহার জংশন দিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষদের যাতায়াত করতে হবে না। বগুড়া থেকে কাহালু স্টেশন হয়ে শাহাজানপুর উপজেলার রানীরহাটে ট্রেন যাবে। সান্তাহার থেকে ট্রেন ছেড়ে বগুড়া কাহালু উপজেলা হয়ে শাহাজানপুর উপজেলার রানীর হাটে মিলিত হবে। বগুড়া অংশে রানীরহাটে হবে জংশন। বগুড়া অংশের স্টেশনগুলো হলো রানীরহাট (জংশন) (সান্তাহার থেকে যে ট্রেন আসবে) সান্তাহার থেকে ট্রেন এসে মিলিত হবে। বোনারপাড়া-বগুড়া থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনও মিলিত হবে বগুড়ার রানীর হাট জংশনে। রানীর হাট ছাড়া বগুড়া অংশের অন্য ৪টি স্টেশন আড়িয়া বাজার, শেরপুর, ছোনকা, চান্দাইকোনা বগুড়া বাজার। সিরাজগঞ্জ অংশে রায়গঞ্জ, কৃষ্ণদিয়া ও সিরাজগঞ্জ জংশন।
এছাড়া প্রকল্প এলাকায় ১০৬টি লেভেল ক্রসিং গেট এবং ১১টি স্টেশনে কম্পিউটার বেইজড আধুনিক ডিজিটাল সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। সিরাজগঞ্জ জংশন থেকে বগুড়া স্টেশন পর্যন্ত নতুন রেলপথের মোট দূরত্ব হবে ৭২ দশমিক ২৮ কিলোমিটার। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলেই রেল লাইন বসানোর কাজ শুরু হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































