রীতা রানী কানু :
শাহাবুল ইসলামের (৩২) সাত বছর আগের জীবনের সঙ্গে এখন কোনো মিল নেই। ওই সময় তার বসতভিটা ছাড়া কোনো জমি ছিল না। অন্যের জমিতে কামলা খেটে কোনোরকমে সংসার চালাতেন। এভাবেই কষ্টের মধ্যে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চলতো তার সংসার। আর আজ তিনি সফল ঘাস চাষি। পাকাবাড়ী, পতিত দুই একর জমির মালিক। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ডাঙ্গা গ্রামের শাহাবুল ইসলামের ভাগ্যের চাকা বদলে গেছে ঘাস চাষে। এখন এলাকার অনেক ঘাসচাষির পথপ্রদর্শক তিনি।
উপজেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটির দূরে খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের খয়েরবাড়ী ডাঙ্গা গ্রাম। এই গ্রামে শাহাবুল ইসলামের বাড়ী। গ্রামটিতে ঢুকেই চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ ঘাসের খেত। কেউ ঘাস কাটছেন, কেউ আঁটি বেঁধে রিকশাভ্যানে করে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানেই দেখা মেলে শাহাবুল ইসলামের সাথে। তিনি বাড়ীর পাশের লাগানো জমির ঘাস কাটছেন। শাহাবুল ইসলাম বলেন, ২০১০ সালে বিয়ের পর পিতা তাকে সংসার থেকে আলাদা (পৃথক) করে দেন। এরপর শুরু হয় সংসার চালানোর জীবন যুদ্ধ। বাড়ীতে গরুর জন্য কেনা ঘাস থেকে সামান্য কিছু রেখে সেগুলোকে চারা হিসেবে বাড়ীর পাশের পতিত জমিতে লাগিয়ে ২০১৩ সালে পরীক্ষামূলক শুরু করেন ঘাস চাষ। ওই চারাগাছগুলো পিতার সামান্য কিছু পতিত জমিতে লাগিয়ে আশানুরূপ লাভের মুখ দেখেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে আশপাশের জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন বানিজ্যিক ভিত্তিতে ঘাস চাষ। এভাবে এক পর্যায়ে শাহাবুল ইসলাম হয়ে ওঠেন এলাকার সফল ঘাসচাষী। কেনেন দুই একর জমি, বানান পাকা বাড়ী। দু’টি গাভীও আছে। এখন নিজের ও বর্গা সবমিলিয়ে ১২ বিঘা জমিতে করছেন ঘাস চাষ। ঘাস বিক্রি করে খরচ বাদে বছরে আয় করছেন প্রায় তিন লাখ টাকা। ঘাস চাষ করে শুধু নিজের ভাগ্যই বদল করেননি। গ্রামের অনেককেই পরামর্শ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। এদের মধ্যে সজিমুদ্দিন ৮ বিঘা, গোলজার আলী ১০ বিঘা, সেকেন্দার আলী ১০ বিঘাসহ ওই গ্রামের প্রায় প্রতি বাড়ীর লোকজনই কমবেশি ঘাস চাষ করছেন।

ঘাসচাষী গোলজার আলী বলেন, শাহাবুল ইসলামের দেখাদেখি তিনিও তার উচু পতিত ১০ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করছেন। দেখতে দেখতে ঘাসের খেত সবুজে ভরে ওঠে। ৫০ দিনের মাথায় ঘাস বিক্রি করে খরচ বাদে আশানুরুপ আয় ঘরে আসছে। গ্রামের আরেক ঘাস চাষী সেকেন্দার আলী বলেন, ঘাস চাষ তার জীবনে সচ্ছলতা এনে দিয়েছে। ঘাস চাষে আগের অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, ‘আসলে ঘাস কোনো ফসল নয়, তাই এ বিষয়টি দেখেন উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর। উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ড. রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ৫২ হেক্টর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষাবাদ হচ্ছে। ঘাস চাষে চাষীদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ঘাস চাষে শাহাবুলের ভাগ্য বদল
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪
































