বগুড়া ব্যুরো ও শিবগঞ্জ প্রতিবেদক :
প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য মেনে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের হলদিহাটি পাকুরতলা জয় দুর্গা মন্দিরে গতবারের ন্যায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে অষ্টাদশ বাহুর দুর্গা প্রতিমা। এই দুর্গা পূজা হলদিহাটির ৯ হিন্দু পরিবারের কাছে এক বিশেষ আরাধনার ও আবেগের নাম।
সাধারণভাবে বাঙালি হিন্দুদের কাছে মা দুর্গা দশ বাহু (দশভূজা) রূপে পূজিত হলেও, এই গ্রামে বিশেষভাবে ১৮ বাহুতে (অষ্টাদশ ভূজা) দেবীর উপাসনা করা হয়। স্থানীয়ভাবে এটি একটি অনন্য ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কথিত আছে, মহিষাশুরের সঙ্গে দুর্গার যুদ্ধের অন্তিম পর্বে, মা দুর্গা ১০ বাহু থেকে ১৮ বাহুর রূপ ধারণ করেন। ওই মন্দিরের পুরোহিত সনাতন চক্রবতী বলেন, ‘মহালক্ষ্মীর অংশ হচ্ছে দশভূজা দুর্গা। আর অষ্টাদশভুজা দুর্গা হচ্ছে আদি পরা শক্তির অংশ। অষ্টাদশভুজার অংশ হচ্ছে দশভূজা দুর্গা।
হলদিহাটি জয়দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রঘুনাথ বিশ্বাস জানায়, আমাদের গ্রামের অনেক ব্যক্তি আগে ভারতে থাকতো। তারা ফিরে আসার পর থেকে আমরা ৮/৯ ঘর হিন্দু মিলে দশভূজা দুর্গা পূজার পরিবর্তে অষ্টাদশ বাহুল প্রতিমা গড়ে পূজা করে আসছি। এবার তার ব্যতিক্রমি হয়নি। আমরা অভাবি মানুষ তাই সকলের সহযোগিতায় এ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা আমাদের পূজাতে সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে। আমাদের পুজার আয়োজনে কমপক্ষে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।
এবিষয়ে শিবগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার দত্ত জানান, হলদিহাটিতে ৮-১০ ঘর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। ৫-৭ বছর দারিদ্রতার কারণে দুর্গা পূজার আয়োজন করতে পারেনি তারা। গত বছর থেকে তারা ব্যতিক্রমী এ পূজোর আয়োজন করে আসছে। দূরদূরান্ত থেকে এখানে মানুষজন অষ্টাদশ ভূজা দেবীর দর্শন করতে আসেন।
প্রসঙ্গতঃ প্রাচীন আমল থেকেই ভারতের কেশপুরের গড়সোনাপেতা গ্রামে দেব পরিবারে অষ্টদশ বাহু বিশিষ্ট মা দুর্গার পুজো করে। তার সঙ্গে মিল রেখে হলদিহাটিতে অষ্টাদশ বাহু বিশিষ্ট দেবী দুর্গার পূজা করা হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ভারতের আদলে অষ্টাদশ বাহুর দুর্গা প্রতিমায় পূজা হচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জে
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫
































