নজরুল ইসলাম মিলন, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে কর্মরত পরিবার কল্যাণ সহকারীরা (এফডাব্লিউএ) বছরের পর বছর ধরে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির মুখে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা অফিসের অফিস সহকারী পদে থাকা দুইজন ব্যক্তি গত ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে থেকে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাদের বিরুদ্ধে বারবার নানা অজুহাতে সহকারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।
সম্প্রতি পরিবার কল্যাণ সহকারীদের টিএডিএ বিল প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে এসেছে। জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং বিলুপ্ত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নসহ ১০টি ইউনিয়নের বহু সহকারীর কাছ থেকে ২৪০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, “আমরা টিএডিএ বিলের প্রকৃত অঙ্ক জানি না। তবে শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ টাকা আগে থেকেই কেটে নেওয়া হয়েছে। এটা এক ধরনের স্পষ্ট চাঁদাবাজি। কেউ যদি প্রতিবাদ করে, তাহলে হয়রানির শিকার হতে হয়।”
তাদের দাবি, অফিস সহকারীদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কাগজপত্র এগোয় না। যেন তারা ‘দয়া’ করে ফাইল প্রসেস করে। ট্রেনিংয়ের বিল, এরিয়া ভাতা সহ নানা বিষয়েও নিয়মিত অনিয়ম হচ্ছে।
বিষয়টি জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, “টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”
চোপিনগর ও মাদলা ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকরাও ফোনে দাবি করেন, “আমরা কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি।”
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান জানান, “উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়েছে। যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবার কল্যাণ সহকারীদের দাবি, এসব অনিয়ম বন্ধ করে দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মকর্তাদের দ্রুত বদলি করতে হবে এবং যারা টাকা নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত আদায় করতে হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
শাজাহানপুরে পরিবার কল্যাণ সহকারীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, টাকা ফেরতের দাবি
জুন ২৬, ২০২৫


































