রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রচন্ড তাপদাহ আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। শুকিয়ে যাচ্ছে নদ-নদী, খাল-বিল ও গাছপালা। বিশেষ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। অনেকে তালের শাস খেয়ে তৃষ্ণা নিবারন করছেন। দুপুর বারোটার পর থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ফাঁকা হয়ে পড়ছে ফুলবাড়ী পৌরশহর।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় টানা তিনদিন ধরে পড়ছে প্রচন্ড গরম। ফুলবাড়ী উপজেরার শ্রমিকসহ মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা তাপদাহে হাপিয়ে উঠছেন। ঘরের ফ্যানের বাতাসও যেন গরম হয়ে উঠছে। তারপরও রয়েছে মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বেলা বাড়ার সাথেই বাড়ছে তাপপ্রবাহ। দুপুরের দিকে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ৩৯ গ্রিডি সেলসিয়াস ছুই ছুই অবস্থা।
উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের কৃষিশ্রমিক ইলিয়াস হেম্ব্রম ও বেতদীঘি ইউনিয়নের সূর্য্যপাড়া গ্রামের কৃষিশ্রমিক শ্যামল হাঁসদা বলেন, তাপদাহের জন্য জমির বোরো ধান কাটার চুক্তি নিয়েও ঠিকমতো কাটতে পারছেন না। কারণ জমিতে তাপদাহের জন্য বেশিক্ষণ টিকে থাকা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নারী কৃষিশ্রমিক ক্ষেতে ধান কাটতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাপদাহের জন্য।
ফুলবাড়ী পৌরএলাকার রিকশা চালক অলঙ্গ রবিদাস বলেন, গত তিন ধরে গরমে রাস্তায় লোকজন পাওয়া যাচ্ছে না। সকালে রিকশা নিয়ে বের হলেও যাত্রীর অভাবে তেমন আয় রোজগার হয়নি। রাস্তা থাকছে ফাঁকা। আয় না হওয়ায় অনেকে বিকেলে রিকশা বের করছেন।
মাইক্রোবাস চালক সঞ্জিত প্রসাদ বলেন, গরম আর তাপদাহের জন্য রাস্তার পিচ গলে যাচ্ছে, এতে করে যানবাহন খুব সতর্কতার সঙ্গে চালাতে হচ্ছে। একটু এদিক ওদিক হলেই দুর্ঘটনার ঘটতে পারে।
এদিকে শ্রমজীবী ও স্থানীয়রা বলেন, গরমে কোনো কাজ করতে পারছেন না তারা। পৌরশহর এলাকায় গরমে নাভিশ্বাস বাড়ছে মানুষের। এরমধ্যে মাঝেমধ্যেই রয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। এদিকে তাপদাহ আর গরমে জন্য চাহিদা বেড়েছে দই, ঘোল, শরবত, তালেরশাসসহ কোমল পানীয় এর।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়া বিদ মো. তোফাজ্জর হোসেন বলেন, গত তিনদিন ধরে দিনাজপুর জেলার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে উঠানামা করছে। আজ রবিবার (১১ মে) বিকেল তিনটায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৫৬ শতাংশ। একইভাবে গত শনিবার (১০ মে) তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল ৪৬ শতাংশ এবং গত শুক্রবার (৯ মে) তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল ৫৬ শতাংশ।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে জেলাজুড়ে মাঝারী তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। এ অবস্থা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে মাঝারী তাপপ্রবাহের জন্য মানুষ সর্দিজ্বর, গলাব্যথা, ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানাসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এ সময় রোদ ও গরম এড়িয়ে চলতে হবে, বেশি বেশি পানি পান করতে হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
তীব্র গরমে অতিষ্ঠ ফুলবাড়ীর জনজীবন, বিরাজ করছে মাঝারী তাপপ্রবাহ
মে ১১, ২০২৫
































