বগুড়া ব্যুরো :
আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ফাঁসানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তার সাবেক স্ত্রী রিয়া মনি মিথিলা দিয়ে এই সম্মানহানি করছেন বলে অভিযোগ এনেছেন।
তিনি বলেন, যারা আমার সম্মানহানি করছে রিয়ামনি মিথিলা এদের বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। যেহেতু মামলা দেওয়া হয়েছে, পিবিআই তদন্ত করছে আশাকরি সঠিক তদন্ত অবশ্যই হবে এবং আমি যদি অন্যায় করে থাকি তাহলে শাস্তি হবে।
আজ মঙ্গলবার (৬ মে) বিকেলে বগুড়ার শহরতলীর এরুলিয়া নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম এসব কথা বলেন। এর আগে রবিবার (৪ মে) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ১ এ বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সাদিয়া রহমান মিথিলা নামের এক নারী বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলায় হিরো আলম ছাড়াও তাঁর মেয়ে আলো বেগম, ব্যক্তিগত সহকারী আল আমিন, মালেক ও তার স্ত্রী জেরিন এবং আহসান হাবাবী সেলিমকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মামলাটি পুলিশের পিবিআই, বগুড়া কার্যালয়ের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, হিরো আলম অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাসে বাদীকে আকৃষ্ট করেন। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে এক মৌলভী ডেকে এনে বিয়ের রীতিতে ‘কবুল’পড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এ সময় বাদীর কাছ থেকে শর্ট ফিল্ম তৈরির কথা বলে ১৫ লাখ টাকা ধার নেন তিনি।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের কাবিন করার জন্য চাপ দিলে ১৮ এপ্রিল হিরো আলম তাকে বগুড়ার বাড়িতে নিয়ে যান এবং গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলেন। তিনি রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল অন্যান্য আসামিরা তাঁকে মারধর করেন। রক্তক্ষরণ শুরু হলে সেদিনই তাঁকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর গর্ভপাত ঘটে। পরে ২৪ এপ্রিল তাঁকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম বলেন, রিয়ামনিই মিথিলা নামের এক মেয়ে দিয়ে মামলাটি করিয়েছে। মামলার সাক্ষীও রিয়ামনি। তিনি বলেন, যে মেয়ে গর্ভবর্তী হলেন তিনি আমাকে জানালেন না কেন। তুমি আমার ১৩ বছরের মেয়েকে জানিয়েছো। তুমি কবে গর্ভবর্তী হলে, কবে বাচ্চা নষ্ট করলে কিছুই আমি জানি না। এতোদিন পরে এসে বলছে আমি গর্ভবতী হয়েছি।হিরো আলম বলেন, আমাকে হয়রানি করার জন্য নাটক করছে এবং ১৫ লাখ টাকা দাবি করছে।
হিরো আলম দাবি করেন, যেহেতু বিয়ের দাবি করছে সেহেতু বিয়ের কাগজ দেখাতে পারলে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তারা আমার ১৩ বছরের মেয়ের জীবনটা নিয়ে যে লাফালাফি করছে আমি অবশ্যই তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।
আমন্ত্রণ/এসিজি
হিরো আলম বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা বগুড়ায় সংবাদ সম্মেলনে নাটক করলেন হিরো আলম
মে ৬, ২০২৫
































