দৈনিক আমন্ত্রণ ক্রীড়া প্রতিবেদক:
কিংস অ্যারেনায় ম্যাচ। ঘরের মাটি, হাতের তালুর মতো চেনা। হাজার পনেরো দর্শক কিংসের পক্ষে গলা ফাটাবে, সেটাই অনুমেয়। তবে গর্জন নয়, অর্জনে তীক্ষ্ন দৃষ্টি মোহনবাগান সুপারজায়ান্টের, ‘পূর্ণ তিন পয়েন্ট চাই।’ যেন বল মাঠে গড়ানোর আগে কথার উত্তাপ ছড়ালেন সফরকারীদের কোচ জুয়ান ফার্নান্দো। স্বাগতিকদের অধিনায়কও এবার আর অমীমাংসিত ফলে বিশ্বাসী নন। পরের ধাপে যেতে যা করণীয় তা বাস্তব করতে প্রস্তুত রবসন রবিনহোরা। আজ মঙ্গলবার কিংস অ্যারেনায় রাত ৮টায় এএফসি কাপের ম্যাচটি যে মাঠেও উত্তাপ ছড়াবে পাল্টাপাল্টি কথার লড়াই সেটিই বলছে।
শেষবার ভিসা জটিলতায় ভারত যাওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল বসুন্ধরা কিংসের। শেষ বেলায় সেটা হলেও ম্যাচের দিন সকালে তারা সেখানে পৌঁছেছিল। ভ্রমণক্লান্তি নিয়েও রাত ১০টায় তারা ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় মোহনবাগানের। দুর্দান্ত খেলে সেই ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে আসে। সেই আত্মবিশ্বাস পুঁজি করে ঘরের মাঠে তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই নামবে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ অস্কার ব্রুজেনকে নিয়ে অধিনায়ক রবিনহোও শোনালেন তেমন কথা, ‘আগামীকাল (আজ) ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামব। তিনটি পয়েন্ট আদায় করার জন্যই খেলব। যাতে করে পরবর্তী ধাপে যেতে পারি।’
কিংসদের বিপক্ষে লড়াই করতে দুদিন আগেই ঢাকায় আসেন মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা। আজকের ম্যাচ নিয়ে সফরকারী দলের অধিনায়ক জানান, তাদেরও লক্ষ্য অভিন্নÑ পূর্ণ তিন পয়েন্ট। বসুন্ধরার সঙ্গে ম্যাচটি ‘ডার্বি’ বলেও অবহিত করেছেন শুভাসিস, ‘ইস্ট বেঙ্গল-মোহনবাগান খেলা হলে বা কলকাতা ডার্বি ম্যাচের আগে যেমন অনুভূতি হয়, এখানে এসেও সেই অনুভূতি হচ্ছে। প্রত্যেকে আমরা ৯০ মিনিটের প্রতিপক্ষ। পরের সময়টা একে অন্যের শুভাকাঙ্ক্ষী। তারা ভারত গেলে সাক্ষাৎ করে, কেউ এদিকে এলে তাদের সঙ্গে দেখা করি।’
দুই দলের আগের ম্যাচটি পূজার কারণে ভুবনেশ্বরে খেলতে হয়েছে। সেখানে গ্যালারি ছিল ফাঁকা। আজ হবে কিংস অ্যারেনায়, যা বসুন্ধরা কিংসের হোমগ্রাউন্ড। বাড়তি চাপ আছে কিনাÑ জবাবে মোহনবাগানের কোচ ফার্নান্দো বলেন, ‘আমাদের দলের মানসিকতা ওভাবেই গড়ে উঠেছে। খেলাটা ৯০ মিনিটের, সবুজ ঘাসের মাঠে। সব একই থাকবে। গ্যালারিতে মোহনবাগানের পক্ষে গর্জন আছে কি নাÑ সেটা নিয়ে আমরা ভাবি না। ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটা জিতে তিন পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’


































