অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের বুজরুক সমশেরনগর (পাঠকপাড়া) গ্রামের মৃত জয়বর আলীর তিন ছেলে জয়জুল ইসলাম, বেলাল হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম। পিতা মৃত্যুর পরও তিনভাই একত্রে বসবাসসহ এক অন্নে খাওয়া দাওয়া করেন।
পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২৫ শতাংশ জমিতে এ বছর চাষ করেছেন গাজর। এজন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সার ও বীজ পেয়েছেন বিনামূল্যে। গাজর চাষের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। গাজর পেয়েছেন প্রায় ৮০ মণ। উৎপাদিত গাজর বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এতে খরচ বাদ দিয়ে তাদের মুনাফা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
গাজর চাষি জয়জুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বছর গাজর চাষ করতে একটু দেরি হওয়ায় লাভ কম হয়েছে। সময় মতো আবাদে হাত দিতে পারলে লাভ আরো বেশি হতো। তবে বানিজ্যিকভাবে গাজর চাষের পদ্ধতি জানা ছিল না। এ বছর কৃষি বিভাগের সহায়তায় বানিজ্যিকভাবে গাজর চাষ করে সফলতা পাওয়া গেছে। গাজর চাষে সফলতার জন্য আগামী আরো অধিক পরিমাণ জমিতে গাজর চাষ করবেন বলে জানান দুইভাই। তবে গাজর চাষে তাদের সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও গাজর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
একই গ্রামের খয়বর আলী কৃষক ছেলে রুবেল বাবু বলেন, গাজর চাষের তেমন আগ্রহ কোনো দিনও ছিল না। কিন্তু গ্রামের জয়জুল ইসলাম, বেলাল হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম এই তিনভাইয়ের গাজর চাষে সফলতা দেখে আগামীতে তিনিও গাজর চাষে নামবেন বলে মনোস্থির করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, এ বছর উপজেলায় ২৮ হেক্টর জমিতে মল্লিকা জাতের গাজর চাষ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন গাজর। এজন্য কৃষকদের আগ্রহী করতে প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজসহ কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কমবেশি সবগুলো জমিতেই গাজরের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকরা তাদের চাহিদানুযায়ী দামও পেয়েছে তাদের উৎপাদিত গাজরের। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গাজর দিয়ে স্থানীয় সবজি বাজারগুলো ভরে গেছে।
ফুলবাড়ীতে বানিজ্যিকভাবে গাজর চাষে সফল তিনভাই
মার্চ ২০, ২০২৪
































