অমর চাঁদ গুপ্ত অপু ও রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তুলা চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকাসহ কম উৎপাদন খরচে আশানুরূপ লাভ পাওয়ায় তুলে চাষে অন্যান্য চাষিরাও আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে বর্তমানে এলাকার কৃষকদের কাছে তুলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কটন ইউনিট অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি তুলা চাষ মৌসুমে ১০০ বিঘা জমিতে তুলা চাষ করা হয়েছে। উপজেলা খয়েরবাড়ী, বেতদীঘি, দৌলতপুর ও শিবনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তুলা চাষ করছেন ৪৪ জন কৃষক। গত বছরের তুলনায় এ বছর তুলার দাম বেশি থাকায় লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক তুলা চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকাসহ হোয়াইট গোল্ড-১, হোয়াইট গোল্ড-২, ডিএম-৪, শুভ্র-৩, রম্নপালি-১ ও সরকারিভাবে সিবি হাইব্রিড-১ জাতের বীজ ভালো হওয়ার কারণে এ বার তুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ভাবে সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্পের বিভিন্ন প্রণোদনা, তুলা চাষের আর্থিক সহযোগিতা হিসেবে সুদমুক্ত ঋণ প্রদানসহ ফুলবাড়ী উপজেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তুলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। এজন্য চাষের আওতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। তবে উপজেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কৃষকদের অক্নান্ত পরিশ্রমে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার খয়েরবাড়ী, বেতদীঘি, দৌলতপুর ও শিবনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তুলার বাম্পার ফলনের জন্য কৃষক-কিষাণীর চোখে-মুখে হাসি ফুটেছে। তুলার সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন আবার কেউবা তুলা বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তুলা চাষ করতে অফিস থেকে প্রশিক্ষণ, সার, বীজ ও কীটনাশক বিনামূল্যে প্রদান করায় এবার তুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর তুলার দাম প্রতি মণে ২৫০ টাকা বেশি হওয়ায় প্রতি মণ ৩ হাজার ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের খয়েরবাড়ী নলডাঙ্গা গ্রামের মৃত আবুল হোসেন শেখের ছেলে তুলা চাষি মহিদুল ইসলাম শেখ বলেন, ফুলবাড়ী তুলা উন্নয়ন বোর্ড থেকে সার, বীজ, ঋণ সহায়তা পেয়ে ২০০৪ সাল থেকে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তুলা চাষ করে আসছেন। এ বছর ৭৫ শতাংশ জমিতে তুলা চাষ করছেন। এরমধ্যে ২৫ শতাংশ জমিতে প্রদর্শনী পস্নট রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকাসহ ফলন ভালো হওয়ায় দামও ভালো পাওয়া গেছে। উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের নলডাঙা গ্রামের মৃত নির্মল সিংয়ের ছেলে তুলা চাষি মতিলাল সিং বলেন, ২০১১ সাল থেকে তুলা চাষ করছেন। এ বছর ২৫ হাজার টাকায় এক একর জমি বর্গা নিয়ে হোয়াইট গোল্ড-২ ও ডিএম-৪ জাতের কার্পাস তুলা চাষ করেছেন। তুলা চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তবে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার টাকায় ১৬ মণ তুলা বিক্রি করেছেন। এখনও বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৭মণ তুলা। যার মূল্য হবে প্রায় ২৮ হাজার টাকা। তিনি বলেন, তার দেখাদেখি এ বছর গ্রামের রতন সিং ২৪ শতাংশ, আরিফুল ইসলাম ৭০ শতাংশ, রাশেদুল ১ একর, বকুল শেখ ১৫০ শতাংশ জমিতে তুলা চাষ করেছেন।
তুলা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর তারা এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে তুলা ক্রয় করে থাকেন। শুধু এখানে নয়, গোটা উত্তরবঙ্গ থেকে তুলা ক্রয় করে থাকেন। এসব তুলা দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার স্পিনিং মিলে সুতা তৈরি করে এই সুতা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার পোষাক তৈরি হয়ে থাকে। ফুলবাড়ী তুলা ইউনিট ইনচার্জ মো. আবু জুয়েল বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত ও খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় না এমন জমিকে ১০০ বিঘা তুলা চাষযোগ্য করে চাষাবাদ করা হচ্ছে। তুলার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিবিঘায় ৯মণ তুলা। এতে মোট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯০০ মণ। তুলা চাষে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শসহ আগাম বিনা সূদে ঋণ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদিত তুলা ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য তুলা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আল মদিনা গ্রম্নপ, আফতাব স্পিনিং এর সঙ্গে যোগাযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
ফুলবাড়ীতে তুলা চাষে ফলন ও আশানুরূপ লাভ পাওয়ায়, অন্যরাও আগ্রহী চচ্ছেন তুলা চাষে
মার্চ ১৪, ২০২৪


































