আতিউর রহমান, বিরল প্রতিবেদক :
বিরলের ধামইর ইউনিয়নের কাশিডাঙ্গা বাজারের একটি শতবর্ষী বটগাছ নিলামে ক্রয়কারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিক্রয়ের দীর্ঘ ৬ মাসেও কোন কাগজপত্র দিতে না পারায় স্থানীয় জনতা কর্তৃক সরকারি গাছ বিক্রেতা জেলা পরিষদের কেয়ার টেকার আরিফুলকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। রবিবার সন্ধ্যায় বিরল থানার এসআই রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স তাকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা করে থানা হাজতে নিয়ে আসে। রাতে এ রিপোর্ট লেখাকালীন থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
স্থানীয় জনতা জানায়, কাশিডাঙ্গা বাজারের একটি শতবর্ষী বটগাছ নিলামে ক্রয়কারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জেলা পরিষদের বিরলস্থ ডাকবাংলোর কেয়ার টেকার আরিফুল ইসলাম ১ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রায় ৬ মাস পূর্বে কাশিডাঙ্গা এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী এন্তাজুল ও তরিকুল এর নিকট বিক্রয় করে। আরিফুল ইসলাম দিনাজপুর সদর উপজেলার উথরাইল গ্রামের নুর ইসলাম এর ছেলে। চুক্তি মোতাবেক এন্তাজুল ও তরিকুল ৩০ হাজার টাকা আরিফুলকে প্রদান করে বটগাছটি শ্রমিক দিয়ে কাটতে শুরু করে। বটগাছটি টুকরো করে কেটে গাড়ীতে করে পরিবহণের উদ্দেশ্যে উত্তোলনের সময় স্থানীয় জনতা সরকারি গাছ ক্রয়ের যথাযথ কাগজপত্র দেখতে চাইলে মুঠোফোনে আরিফুল আজকাল কাগজ পৌছাবে বলে সময়ক্ষেপন করতে থাকে। এভাবে প্রায় ৬ মাস বাজারের মধ্যে টুকরো টুকরো অবস্থায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের শতবর্ষী বটগাছটি পরে থাকে। ৩ মার্চ রবিবার বিকেলে গাছ বিক্রির অবশিষ্ট ৮০ হাজার টাকা নিতে আরিফুল ইসলাম কাশিডাঙ্গা বাজারে গেলে স্থানীয় জনতা আরিফুলকে আটক করে রাখে। একপর্যায়ে সে উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দের নির্দেশে গাছ বিক্রি করছে বলে দাম্ভিকতার সাথে প্রকাশ করলে স্থানীয় জনতা এলাকার জেলা পরিষদের সদস্যকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে উপস্থিত জনতা। সংবাদ পেয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এসআই রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স তাকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা করে থানা হাজতে নিয়ে আসে। এ সময় আরিফুল ইসলাম এর ব্যবহৃত একটি বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মাওলা শাহ জানান, লিখিত এজাহার পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


































