পাঁচবিবি সংবাদদাতা :
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে পর থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, মারপিট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) পাঁচবিবি থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, একটি মামলার বাদী ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক। এই মামলায় ওয়াহেদুল্ল্যাহ খান আদনান ও তার ছোটভাই ইনজামামুল হকসহ অজ্ঞাত ৯ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর অন্যটির বাদী ওই প্রধান শিক্ষকের অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ওয়াহেদুল্ল্যাহ খান আদনান। তার মামলায় প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক, রাশেদ, আরাফাত, সাজুসহ অজ্ঞাত ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগজানা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ওয়াহেদুল্ল্যাহ খান আদনান। অভিযোগটি পাঁচবিবি ইউএনওর কাছে পাঠানো হয়। ইউএনও অভিযোগটি তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেন। কমিটি দায়সারা তদন্ত করেছেÑ এমন অভিযোগ এনে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে পুনরায় কমিটি গঠনের আবেদন করেন ওয়াহেদুল্ল্যাহ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পূর্বের তারিখ স্থগিত করে গত সোমবার নির্ধারণ করেন।
ওই দিন দুপুরে ওয়াহেদুল্ল্যাহ, অভিভাবকসহ লোকজন নিয়ে বিদ্যালয় মাঠে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুর ১টার পর শিক্ষকরা জানান, তদন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ওয়াহেদুল্ল্যাহ খানের লোকজন বিদ্যালয়ের কলাপসিবল দরজা ও শিক্ষকদের অফিসকক্ষের একটি দরজায় তালা দেন। এরপর তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
খবর পেয়ে বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক এসে ওয়াহেদুল্ল্যাহ খান ও তার লোকজনকে অফিসকক্ষে ডেকে নেন। তখন বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে বহিরাগত লোকজন ওয়াহেদুল্ল্যাহ ও তার ছোট ভাইকে বেদম মারপিট করার পর শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ শিক্ষকদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের লোকজন ও শিক্ষক-ছাত্র আহত হয়েছে। ওই দিন রাতে প্রধান শিক্ষক ও ওয়াহেদুল্ল্যাহ খান পাল্টাপাল্টি মামলা করেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রুহুল আমিন বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তে সোমবার ওই বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। হঠাৎ করেই ঢাকায় আসার কারণে তারিখ পরিবর্তন করে বুধবার (২৩ অক্টোবর) করেছি। সেটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অভিযোগকারীকে জানিয়েছি।’
আমন্ত্রণ/এসিজি


































