পূজা মণ্ডপগুলোতে ৪৩৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ
প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া:
আগামী ১০ অক্টোবর (শনিবার) মহালয়ায় দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে যাচ্ছে। এজন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্য দুর্গাপূজার আগমনী সুর বাজতে শুরু করেছে। আর কয়েকদিন পরই ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি ও আরাধনায় মুখরিত হবে পূজামণ্ডপগুলো। উৎসবকে ঘিরে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ।
সময়মতো প্রতিমা হস্তান্তরে দিন-রাত কাজ করছেন তারা। অন্যদিকে মণ্ডপসজ্জা, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর দেবী দুর্গার ষষ্ঠি পূজা দিয়ে ছয় দিনের এই উৎসব শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় এবং গমন করবেন নৌকায়। এরই মধ্যে উৎসবের ক্ষণগণনা শুরু করেছেন ভক্ত-অনুরাগীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ার বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত প্রতিমাশিল্পীরা। কেউ প্রতিমায় কাদামাটির শেষ প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ আবার শুকিয়ে যাওয়া প্রতিমায় রং ও অলংকরণের কাজ করছেন। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে জীবন্ত রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
কারখানাটির স্বত্বাধিকারী কাজল চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, এ বছর বগুড়া সদর ও আশপাশের উপজেলা ছাড়াও জামালপুর ও নওগাঁ থেকে ২০টি প্রতিমা সেটের অর্ডার পেয়েছেন। গতবারের তুলনায় এবার অর্ডার কম। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি কাঁচামাল ও কারিগরদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। প্রতিটি প্রতিমা সেট ২৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে অর্ডার নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপের গেট, প্যান্ডেল, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট কারিগররা। জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার ১৩টি উপজেলায় এবার ৭৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৮১টি। সে হিসাবে এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি।
বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকেও মণ্ডপে মণ্ডপে নিরাপত্তাকর্মী রাখা হবে।
এদিকে দুর্গাপূজা ঘিরে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি থাকবে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এরপর ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি আর আরাধনার মধ্য দিয়ে বগুড়ার মণ্ডপগুলোতে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আয়োজন।
এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে বগুড়া জেলার ১৩টি উপজেলার ৭৩০টি পূজা মণ্ডপের জন্য ৪৩৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পূজা মণ্ডপে সমবেত ভক্তদের আহার্য ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করতে মণ্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি করে এই চাল দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সরকারি পত্রে চাল বরাদ্দের এই নির্দেশ জারি করা হয়।
তালিকা অনুযায়ী, জেলার উপজেলাভিত্তিক মণ্ডপ ও চাল বরাদ্দের পরিমাণ হলো বগুড়া সদরে ১২১টি মণ্ডপের অনুকূলে ৭২ দশমিক ৬০০ মেট্রিক টন, শেরপুরে ৯৪টি মণ্ডপে ৫৬ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন, আদমদীঘিতে ৬৯টি মণ্ডপে ৪১ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন, গাবতলীতে ৬৮টি মণ্ডপে ৪০ দশমিক ৮০০ মেট্রিক টন, সোনাতলায় ৫৪টি মণ্ডপে ৩২ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন, ধুনটে ৩৫টি মণ্ডপে ২১ মেট্রিক টন, দুপচাঁচিয়ায় ৪৫টি মণ্ডপে ২৭ মেট্রিক টন, নন্দীগ্রামে ৪৮টি মণ্ডপে ২৮ দশমিক ৮০০ মেট্রিক টন, শাজাহানপুরে ৪৮টি মণ্ডপে ২৮ দশমিক ৮০০ মেট্রিক টন, কাহালুতে ৪০টি মণ্ডপে ২৪ মেট্রিক টন, শিবগঞ্জে ৩৯টি মণ্ডপে ২৩ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন, সারিয়াকান্দিতে ২৮টি মণ্ডপে ১৬ দশমিক ৮০০ মেট্রিক টন এবং মোকামতলায় ২৫টি মণ্ডপের অনুকূলে ১৫ মেট্রিক টন চাল উপবরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। ভক্তদের সুবিধা ও পূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারি বিধিসংক্রান্ত সকল নিয়ম মেনে এই ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এসব চাল মণ্ডপগুলোতে বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। পূজা উদযাপনে যেকোনো আইনশৃঙ্খলা বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
আমন্ত্রণ/এজি
৭৩১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা : বগুড়ায় আর কদিন পড়েই ঢাকে কাঠি পড়বে, বাজবে শঙ্খধ্বনি
অক্টোবর ৭, ২০২৬
































