প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া :
মাত্র পাঁচ বছরের শিশু রাফান। যে কিনা এখনো স্কুলের গণ্ডি পাড়ায়নি। কিন্তু তার ব্যাট ধরার স্টাইল, বল করার অনবদ্য ভঙ্গিমা সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। সাইফ, রিপন মন্ডল, মাসুম থেকে শুরু করে জাতীয় দলের সবাই রাফানকে পছন্দ করে। কোচ ম্যানেজাররা ক্রিকেটের প্রতি রাফানের ইচ্ছা শক্তি দেখে সবাই অবাক। যাবার সময় তারা দিয়ে গেছেন নানা রকমের পরামর্শ। তাকে ভালভাবে গড়ে তুললে সেই একদিন হতে পারে মুশফিক রহিম, তামিম ইকবালের মতো নামি দামি খেলোয়াড়। বর্তমানে তার ব্যাট করা ও বল করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ক্ষুদে ক্রিকেটারের খেলা দেখে সবাই মুগ্ধ।
বগুড়া শহরের কামারগাড়ি এলাকায় সিএনজিচালক খোকন মিয়া ও গৃহিনী উম্মে কুলসুল রিতা দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে রাফান। মাত্র পাঁচ বছরের শিশু রাফান এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বয়সে খুবই ছোট হলেও ক্রিকেটে তার স্বাভাবিক প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাস দেখে অবাক হচ্ছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। অনেকেই বলছেন, এত অল্প বয়সে এমন ক্রিকেট সেন্স সত্যিই বিরল।
খুব ছোট বয়স থেকেই ক্রিকেটের প্রতি রাফানের আলাদা এক টান লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। খেলাধুলার সুযোগ পেলেই ব্যাট হাতে মাঠে নেমে পড়ে সে।
প্রতিদিনই বিকেলে সরকারি আজিজুল হক কলেজ মাঠে বড় ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায় রাফানকে। বয়সে অনেক ছোট হলেও তার ব্যাটিং স্টাইল, বলের টাইমিং, শরীরের ভারসাম্য ও মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা আত্মবিশ্বাস অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কেও তাক লাগিয়ে দেয়। বড়দের সঙ্গে নির্বিঘ্নে খেলার সাহস ও খেলাটি দ্রুত বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে।
রাফানের চোখে স্বপ্নের ঝিলিক। সে একদিন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের মতো ক্রিকেটার হতে চায়। ক্রিকেট খেলেই দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার ইচ্ছা তার এই ছোট বয়সেই স্পষ্ট।
রাফান জানান, টিভি দেখে খেলা আয়ত্ব করেন। বড় হয়ে সে অল রাউন্ডার হতে চায়। তার প্রিয় খেলোয়াড় মুস্তাফিজ, রিপন মন্ডল, মুকিদুল মুগ্ধ।
রাফানের বাবা খোকন মিয়া বলেন, “আমার ছেলে খুব ছোট বয়স থেকেই ক্রিকেটের প্রতি দুর্বল। ব্যাট দেখলেই খেলতে চায়। ওর স্বপ্ন বড় হয়ে জাতীয় দলে ক্রিকেট খেলার। আমি একজন সাধারণ সিএনজিচালক, তবুও ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। এখনো ওকে স্কুলে দেয়নি। এতো কম বয়স রাফানকে কেউ ভর্তি নিতে চাইছে না। তিনি বলেন, ছেলে বড় হলে ঢাকার বিকেএসপিতে ভর্তি করার ইচ্ছা আছে।
রাফানের মা উম্মে কুলছুম রিতা জানান, আমার বড় ছেলে যেভাবে ক্রিকেট খেলত, রাফান তাকে ফলো করেই খেলতে শিখেছে। বড় ছেলেকে দেখে দেখে ছোট ছেলেও ব্যাট-বল ধরেছে। আমার প্রত্যাশা, একদিন রাফান বগুড়ার মুশফিকুর রহিম কিংবা তামিম ইকবালের মতো বড় ক্রিকেটার হবে।
তবে আর্থিক অস্বচ্ছলতা তাদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাফানের খেলার প্রয়োজনীয় সামগ্রী—ব্যাট, প্যাড, গ্লাভস বা কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে রাফানের মা বলেন, অভাবের সংসারে ছেলের জন্য ভালো খেলার সামগ্রী কিনে দিতে পারছি না। যদি কোনোভাবে সহযোগিতা পেতাম, তাহলে ছেলেটাকে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিতে পারতাম। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি এই ক্ষুদে ক্রিকেটার রাফানের প্রতিভার দিকে নজর দেন, তাহলে তার ভবিষ্যৎ গড়তে বড় ভূমিকা রাখবে।
কামারগাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম মন্ডল জানান, সঠিক পরিচর্যা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রাফান ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটে বড় অবদান রাখতে পারে। এত অল্প বয়সে যে প্রতিভার ঝলক সে দেখাচ্ছে, তা যথাযথভাবে লালন করা গেলে জাতীয় পর্যায়ের একজন খেলোয়াড় তৈরি হওয়া অসম্ভব নয়।
এই ক্ষুদে প্রতিভাকে এগিয়ে নিতে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাই এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা।
আমন্ত্রণ/এজি
৫ বছরের ক্ষুদে ক্রিকেটারের ব্যাটিং-বলিংয়ে মুগ্ধ সবাই
মার্চ ৭, ২০২৬


































