মাহমুদুল হাসান মুনজু, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুনজুর মোর্শেদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরির হলরুমে এ- সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন, অত্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাদেক মােহাম্মদ আজিজ লাভলু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,২০২৩ সালের ১মার্চ অত্র কলেজের নবীন বরন ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেসময় উপাধ্যক্ষ পদে থাকা মুনজুর মোর্শেদ তার বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে খুনি আখ্যা দিয়ে মরণোত্তর বিচার দাবি করেন। সেই সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কু-রুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
সেসময় স্বেরাচারী সরকার ও তার দোসরদের ভয়ে ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে পারিনি। মুনজুর মাের্শেদ সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস সাইফুজ্জামান শেখরের ঘনিষ্টজন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যেসব নির্বাচন হয়েছে সেসব নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব নিয়ে ভােট ডাকাতিতে অংশ নিতেন। ৫ আগস্টের ঘটনার পর তিনি জনগণের তােপেরমুখে আত্মগোপনে চলে যান। তার নামে নাশকতার মামলাও রয়েছে। পরে তৎকালীন কতিপয় দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি( ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন।
একইদিনে তার বিরুদ্ধে অত্র কলেজের অফিস সহায়ক জাহিদুল ইসলাম তার ছেলের চাকুরির জন্য ১৩ লাখ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানে আমার ছেলের পিয়নের চাকুরির জন্য প্রিন্সিপালের সাথে ১৩ লাখ টাকা ঠিক হয়। ৩ লাখ টাকা নগদ ১০ লাখ টাকা চাকুরী হওয়ার পর । ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তিনি গোপন রাখতে বলেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি আমাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। এখন তিনি প্রাণনাশেরও হুমকি দিচ্ছেন।
এ- বিষয়ে কলেজ এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. নূরে- এ আজম বাবু বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। ঘটনাটি কতটা সত্য তা আমার জানা নেই। তবে এসব বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত না গিয়ে আমাকে জানান উচিত ছিলো। যতটুকু জানতে পেরেছি অধ্যক্ষর পদ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে । তবে যা কিছু হবে নীতিমালা অনুযায়ী হবে।
এ-ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুনজুর মোর্শেদ জানান, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন । আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাদেক মোহাম্মদ আজিজ প্রতিহিংসা করছে। সে ষড়যন্ত্র করে আমাকে প্রিন্সিপাল পদ থেকে সরিয়ে নিজেই প্রিন্সিপাল হওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করছেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































