অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিটের বয়লারের পাইপ ফেটে লিকেজ হওয়ায় গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ইউনিটটি থেকে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পাশপাশি পূর্বে ২নং ও ৩নং ইউনিটও বন্ধ থাকায় বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে উত্তর জনপদের মানুষ বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকার কথা নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেছেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অন্তত দুইটি ইউনিট চালুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দসূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়ায় উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করে কেন্দ্রের ৫২৫ মেগাওয়াটের তিনটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এরমধ্যে ১নং এবং ২ নং ইউনিট মিলে মোট ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আর ৩ নং ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন। এরমধ্যে ২ নং ইউনিট যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র ১নং ও ৩নং ইউনিট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম সচল ছিল। এই দুই ইউনিট থেকে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রীডে সংযোগ করা হতো। এরই মধ্যে যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩ নং ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে সচল ছিল শুধুমাত্র ১নং ইউনিটটি। সেই ১নং ইউনিটটিও বয়লারের পাইপ ফেটে লিকেজের জন্য যান্ত্রিক ত্রæটি দেখা দেয়ায় মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১নং ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে গেছে। এজন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে এখন পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চলমান ১২৫ মেগাওয়াটের ১নং ইউনিটের বয়লারের পাইপ ফেটে লিকেজ হওয়ায় সেটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে একই কারণে ১৫ ফেব্রুয়ারি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সচল ৩নং ইউনিটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে ১ নং ইউনিটটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সচল করা সম্ভব হবে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ৩নং ইউনিটটিও সচল করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































