জাহিদুল ইসলাম, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক, হিলি :
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও দাম কমছে না। ফলে কয়েকদিন ধরে কেজিতে ৩/৪ টাকা করে উঠা-নামা করছে।
আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্দরের মোকামে গুণগত মানভেদে আমদানিকৃত পেঁয়াজ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৯১-৯৫ টাকা। আর খুচরা বাজারেও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুদিন আগেও বন্দরে পাইকারী বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকার কাছাকাছি।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানীকারকরা জানান, ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় বন্যার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সেখানে দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। এর প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। আগামী মাসে ভারতের নাসিকে পেঁয়াজের নতুন ফলন উঠলেই দাম কমে আসবে।
বন্দরের প্রসিদ্ধ পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা ভারত সহ পাকিস্তান, মিশর, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করি। যাতে দেশি পেঁয়াজের সংকট বা সরবরাহ কমে গেলেও যেন ভোক্তাদের বেশি দাম দিয়ে পেঁয়াজ কিনতে না হয়। এই চেষ্টাই করা হয়। কিন্তু কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা হলেও হিলি স্থলবন্দরে দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে। যেখানে ভারতের পেঁয়াজ উদপাদন এলাকাগুলোতে বন্যা হয়েছে। একারণে দামও কেজিতে ৮/১০ টাকা বেড়েছে। তারপরেও আমরা পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত রেখেছি। ফলে হিলি বন্দরে দাম তেমন ভাবে বাড়েনি।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রæপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী জানান, ভারতে অতিবৃষ্টি হয়েছে। এজন্য সেখানে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাতে কিছুটা দাম বেড়ে গেছে। আবার পেঁয়াজ কিছুটা ভেজা হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে। আগামী মাসে ভারতের নাসিকে পেঁয়াজের নতুন ফলন উঠলেই দাম কমে আসবে।
এদিকে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শফিউল ইসলাম জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি স্বভাবিক রয়েছে। গত ২৬-২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ভারত থেকে ১১২টি ভারতীয় ট্রাকে ৩২ হাজার ৪৪৪ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি হয়ে দেশে এসেছে। প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজের শুল্কায়ণ মূল্য ৪১০ ডলারে করা হচ্ছে। তাতে প্রতি কেজিতে শুল্ককর ৩ টাকা হিসেবে এই ৪ দিনে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯৭ লাখ ৩৩ হাজার ২০০ টাকা।
তিনি আরও জানান, এই বন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে কাঁচাপণ্য সহ সব ধরণের পণ্য আমদানি হয়ে পানামা ওয়্যারহাউজে আসে। আমরা দ্রæততার সাথে সেসব পণ্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সরকারের রাজস্ব আদায় সাপেক্ষে খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































