বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যোগ দিয়ে গুলিতে আহত হয় ষষ্ঠ শ্রেণিরর শিশু জুনাইদ ইসলাম রাতুল। বর্তমানে ৪১ দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে শিশুটি। এ পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করেও কোনো আশা দেখছেন না তারা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাতুল বেঁচে ফিরলেও চিরদিনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে। বর্তমানে রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রাতুল এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
রাতুল বগুড়া উপশহরের পথ পাবলিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ওই এলাকার মুদি দোকানি জিয়াউর রহমানের ছেলে।
৫ আগস্ট সকালে নাস্তা না করে মায়ের বারণ সত্তে¡ও রাতুল তার বোন বগুড়া মুজিবর রহমান মহিলা কলেজের স্নাতক শিক্ষার্থী জেরিন সুলতানা ও রাতুলের ভগ্নিপতি আমির হামজার সঙ্গে চলে যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। অন্যদের সঙ্গে গগন বিদারি ¯েøাগান দিতে দিতে বগুড়া সদর থানার অদুরে ঝাউতলার কাছে পৌঁছায়। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে আহত হয় পথ পাবলিক স্কুলের ছোট্ট ছাত্র রাতুল।
রাতুরের বড়বোন জেরিন জানান, তার পাশেই ছিল রাতুল। হঠাৎ পুলিশের আক্রমণ। রাতুলের মাথায় ৪টি ছররা গুলি লাগে। এরমধ্যে একটি গুলি রাতুলের বাম চোখের মধ্যদিয়ে মাথার মগজে ঢুকে যায়। এরপর আরো অসংখ্য গুলি লাগে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায়। অজ্ঞান অবস্থায় তার বোন জেরিন ও তার ভগ্নিপতি তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতলে নিতে বলেন। পরে ঢাকায় নেয়ার পর তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। মগজের ভেতর থেকে একটি গুলি বের করেন চিকিৎসকরা। ভগ্নিপতি হামজা জানান, রাতুলের জন্যে কৃত্রিমভাবে শ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত ৪১ দিন ধরে অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালের আইসিইউর বেডে শুয়ে থাকা জুনায়েদ ইসলাম রাতুল একটি কথাও বলেনি।
মুদির দোকানি বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, এক্স-রে রিপোর্টে ছেলের মাথা, চোখসহ শরীরে শতাধিক গুলি পেয়েছেন চিকিৎসকরা। চোখ ভেদ করে গেছে গুলি; লেগেছে ব্রেইনেও। এ পর্যন্ত ৩৬টি গুলি অপসারণ করেছে। চিকিৎসকরাই বলেছেন, রাতুল বেঁচে ফিরলেও চিরদিনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে। ও আমার একমাত্র ছেলে। যন্ত্রণায় ছটফট করলে নিজেকে ধরে রাখতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, তার সর্বস্ব বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করছেন। ঢাকায় দুই জন লোকের থাকা, খাওয়া, গাড়ি ভাড়া, ছেলের ওষুধ-পথ্য সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত তার পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে এরমধ্যে রাতুলের স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সাধ্যমত আর্থিক সহায়তা করেছেন। আরো দু-একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এগিয়ে এসেছে। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।
হাসপাতলের বিছানায় রাতুলের শিয়রে বসে আছেন তার মা রোকেয়া বেগম। এতোদিন ধরে তিনি দুই চেখের পাতা এক করতে পারেননি। ছেলের মুখে মা ডাক শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন তিনি। ছেলের সুস্থতার জন্য একের পর এক মানত করে চলেছেন তিনি।
মুঠোফোনে তিনি বলেন, আল্লাহ কাছে দুহাত তুলে প্রতিদিন প্রার্থনা করছি দ্রæত আমার ছেলেকে সুস্থ করে দাও। কিন্তু কি করলে আল্লাহ তার কথা শুনবেন, ছোট্ট রাতুল কথা বলে উঠবে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এজন্য সবার দোযা ও সহযোগিতা চেয়েছেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































